শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
রাহাদ সুমন, বানারীপাড়া ॥ বরিশালের বানারীপাড়ার পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের হাফেজ মো. জসিম উদ্দিন গত বছরের ঈদে তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক, কসমেটিক্স, খেলনা এবং নানা খাবার নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু এবার ঈদের দিন তার অনুপস্থিতিতে গোটা পরিবারে বিষাদ নেমে এসেছে। স্ত্রী সুমি আক্তার, মেয়ে জান্নাত ও ছেলে সাইফ তার কবরের পাশে বারবার গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। দেড় বছর বয়সী সাইফ এখন ২ বছর ৩ মাস বয়সী, এবং সে সবার মাঝে তার বাবা জসিম উদ্দিনকে খুঁজে ফিরছে।
জসিম উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার পরিবারে ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে। স্ত্রী সুমি আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘‘স্বামীকে হারিয়ে আমাদের সমস্ত আনন্দ চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। ঈদ এখন আমাদের জন্য শুধু বেদনা। আমাদের দুই সন্তান, বিশেষ করে সাইফ, বাবাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। ছোট্ট ছেলেটি যখন বাবার জন্য কাঁদে, তখন সে নিজেই আমার চোখের জল মুছে দেয়।’’
১১ বছর বয়সী মেয়ে জান্নাত কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘‘বাবা ফিরে আসলে আমাদের জন্য সবসময় নতুন খেলনা, পোশাক, খাবার নিয়ে আসতেন। আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরতেন। এখন আর সেই প্রিয় বাবা ফিরে আসবে না।’’ জান্নাতের এই কথা শুনে তার মা সুমি বলেন, ‘‘অন্যসব বাবা-মা যেমন সন্তানদের জন্য ঈদে নতুন কিছু নিয়ে আসে, তেমনি আমাদের জীবন থেকে সেই আনন্দ চিরকাল চলে গেছে।’’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরে কোটা আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিন। ওই দিন রাতেই তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরের দিন জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন এবং উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের এমএসএ ওয়ার্কশপে চাকরি করতেন।
এদিকে, বৃদ্ধা মা মেহেরুন্নেছা বেগম, যিনি স্ট্রোকের রোগী, তার কান্নাও থামছে না। জসিম উদ্দিনের মৃত্যু তাকে শোকে নিমজ্জিত করেছে। বৃদ্ধা মা তার ছেলে জসিম উদ্দিনকে হারিয়ে গভীর কষ্টে রয়েছেন। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন যেন তার ছেলে জান্নাতে স্থান পান।
Leave a Reply