শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:১৫ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শুল্ক ব্যবস্থা কার্যত বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং অনেকেই এটিকে ‘ট্রেড ওয়ার’ বা শুল্ক যুদ্ধের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপের পক্ষে দাবি করছে, শুল্ক আরোপের মাধ্যমে মার্কিন শিল্পকে রক্ষা করা যাবে এবং দেশীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। তাদের মতে, শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা আর বিদেশি দেশগুলোর কাছে আমাদের বাজারকে জিম্মি হতে দেব না। এটি আমেরিকার জন্য একটি নতুন শুরু।”
তবে এই শুল্ক আরোপের পরপরই কানাডা, মেক্সিকো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন পণ্যের ওপর প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কানাডা ১০৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে, তারা মার্কিন কৃষিপণ্য ও শক্তি খাতের ওপর প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করবে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স এবং অটোমোবাইল শিল্পে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন এই শুল্ককে ‘বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আমদানির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের কারণে বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাবে, যা লাখো মানুষের জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো, যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের শিকার হয়েছে, তারা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে, শুল্ক ঘোষণার পর বিশ্ব শেয়ার বাজারে তীব্র পতন দেখা গেছে। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের ডাও জোন্স সূচক ৫০০ পয়েন্ট কমেছে এবং কানাডা ও মেক্সিকোর বাজারেও ধস নেমেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শুল্ক যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স এবং খাদ্যপণ্যের ওপর, যার ফলে জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে, তবে তাৎক্ষণিক সমাধানের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী এই শুল্ক যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক মুক্ত পরিবেশের পরিবর্তে সংরক্ষণবাদী নীতির দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
Leave a Reply