শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ওই অঞ্চলকে ‘স্থলবেষ্টিত’ বলে অভিহিত করেন এবং বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের ‘সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্যের পর ভারতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দাবি করেছেন, বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, ড. ইউনূসের বক্তব্যের পরপরই ভারতের কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ভারত বঙ্গোপসাগরের দীর্ঘতম উপকূলরেখার অধিকারী, যা প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। পাশাপাশি তিনি বিমসটেকের পাঁচ সদস্য দেশের সঙ্গে ভারতের সংযোগ এবং ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিমসটেক অঞ্চলের জন্য একটি ‘সংযোগ কেন্দ্র’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এখানে সড়ক, রেলপথ, পানিপথ, গ্রিড ও পাইপলাইনের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভারত দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ভৌগোলিক অঞ্চলে পণ্য, পরিষেবা ও মানুষের চলাচলের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি বলেন, বিমসটেককে শক্তিশালী করার জন্য ভারত বিগত দশকে ব্যাপক শক্তি ও মনোযোগ দিয়েছে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, বরং একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির অংশ।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মন্তব্য ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টা বক্তব্যের পর বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভারতের মিডিয়ায় এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থান ও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশাধিকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হচ্ছে।
বঙ্গোপসাগর ও সংযোগের প্রসঙ্গে ভারতের নতুন দাবির পর বাংলাদেশ সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে নতুন কৌশলগত আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
এদিকে, ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের নীতিনির্ধারকরা বিমসটেককে আরও কার্যকর করতে চাইছেন এবং এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা করছেন। তবে বাংলাদেশসহ অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক সমীকরণ।
Leave a Reply