বনানী অগ্নিকাণ্ড: রাজউকের ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ফেঁসে যাচ্ছেন Latest Update News of Bangladesh

বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:২১ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
Latest Update Bangla News 24/7 আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] অথবা [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩




বনানী অগ্নিকাণ্ড: রাজউকের ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ফেঁসে যাচ্ছেন

বনানী অগ্নিকাণ্ড: রাজউকের ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ফেঁসে যাচ্ছেন




অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর বহুতল ভবন এফ আর টাওয়ারের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জড়িত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ২০ জন কর্মকর্তা- কর্মচারী ফেঁসে যাচ্ছেন। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ১৮তলা ভবন নির্মাণের জন্য এর নকশা অনুমোদন করা হলেও সেখানে পরবর্তীতে নির্মাণ করা হয় ২৩ তলা।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে এসব কর্মকর্তা- কর্মচারীর নাম চেয়ে রাজউকের কাছে চিঠি দিয়েছে । এখন অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জড়িত সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা- কর্মচারিদের নাম ও তাদের স্থায়ী/ অস্থায়ী ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এফ আর টাওয়ার নিয়ে ইমারত নির্মাণ শাখা ও এষ্টেট শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারিরা থাকছেন এ তালিকায়।

বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে রাজউকের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নাম প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছি আমরা। ওই তালিকা মন্ত্রণালয়ের চাহিদা মতো সরবরাহ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর এফ আর টাওয়ারের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদন করতে রূপায়ন হাউজিং এষ্টেটকে আমমোক্তার নিয়োগ করা হয়।

এরপরই তারা ২৩ তলা ভবনের নকশা অনুমোদনের কপি রাজউকের এষ্টেট শাখায় জমা দেয়।

এর ভিত্তিতে ২০০৬ সালের ২৬শে জানুয়ারি ২০, ২১ ও ২২ নং ফ্লোর জিএসপি ফাইন্যান্স বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে বন্ধক রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। ৭ই ফেব্রুয়ারি বন্ধক অনুমতির অনুমোদন দেয় রাজউক।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, জাল নকশা যাচাই না করে কিসের ভিত্তিতে বন্ধক অনুমতি দেয়া হয়েছে ওই বিষয়টি জানতে চেয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি ওই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সঙ্গে যেসব কর্মকর্তা- কর্মচারি জড়িত তাদের নাম ও ঠিকানা চাওয়া হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ডিলিং সহকারি, তত্ত্বাবধায়ক, সহকারি পরিচালক, উপ-পরিচালক, পরিচালক, সদস্য (এষ্টেট) ও চেয়ারম্যানের নাম ও ঠিকানা চাওয়া হয়েছে।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২০শে আগস্ট অথরাইজড অফিসারকে একটি চিঠি দেয়।

ওই চিঠিতে এফ আর টাওয়ারের নকশার কপি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। এর বিপরীতে অথরাইজড অফিসার জানান, এফ আর টাওয়ারের অনুমোদিত ইমারতের নকশা রেকর্ডে নেই। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে এষ্টেট ও অথরাইজ শাখা অনেকটা চুপসে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নকশা জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণ হওয়ার পরও রাজউকের যেসব কর্মকর্তা দায়সারাভাবে ফাইল উপস্থাপন করেছেন তাদের নামও তালিকায় থাকবে। এছাড়া বন্ধক অনুমতি দিয়ে যারা বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন মর্মে ফাইলে প্রমাণ আছে তাদের নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি হবে। রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান, তালিকা তৈরিতে আমাদের কিছু করার নেই। মন্ত্রণালয় যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছে ওইভাবেই তালিকা তৈরি করছে আমরা।

রাজউকের সূত্র জানিয়েছেন, রাজধানীর বনানীর ১৭ নম্বর রোডের এফ আর টাওয়ার অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে তৈরি করা হয়েছে।

এফআর টাওয়ারের মালিকপক্ষ ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজউকের কাছে আরেকটি নকশা পেশ করে, যার সঙ্গে রাজউকে সংরক্ষিত নকশার কোনো মিল নেই। শুধু তাই নয়, ১৯৯৬ সালের যে মূল নকশা রাজউকের অনুমোদন পেয়েছিল, সেটির সঙ্গেও নির্মিত ভবনটির অনেক বিচ্যুতি রয়েছে।এ ব্যাপারে ২০০৭ সালে রাজউক একটি রিপোর্টও তৈরি করে।

প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ ( বৃহস্পতিবার ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে বনানীতে ২৩ তলা এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত সাতটায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জন মারা গেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

Shares
© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD
Shares