বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ঘিরে। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ইসরায়েলকে জানিয়েছে, বর্ধিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার (২৬ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম Kan-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন তেল আবিবকে নিশ্চিত করেছে যে প্রেসিডেন্ট Donald Trump নির্ধারিত সময়সীমা আর বাড়াতে অনাগ্রহী।
ইস্তাম্বুল থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন অনির্দিষ্ট আলোচনার বদলে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান চায়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এত অল্প সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব আসার সম্ভাবনা সীমিত। ফলে যুদ্ধবিরতি শেষ হলে আবারও উত্তেজনা বাড়তে পারে।
একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি রয়েছে। তারা দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আগাম কূটনৈতিক সমন্বয় কম হচ্ছে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তারা সংবাদমাধ্যম থেকেই জানতে পারছেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বুধবার Fox News-কে জানান, যুদ্ধবিরতি তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এর ভবিষ্যৎ পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
এর আগে পাকিস্তানের অনুরোধে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান এবং শর্ত দেন—ইরানকে একটি সমন্বিত বা ‘একীভূত’ প্রস্তাব দিতে হবে। সেই শর্ত পূরণ না হলে সাময়িক শান্তি স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় দুই পক্ষ অংশ নেয়।
বর্তমানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চললেও আস্থার ঘাটতি বড় বাধা হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সময়সীমা নির্ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে চাইছে। পাকিস্তান নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালালেও কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটছে না।
রোববারের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যদি কোনো গ্রহণযোগ্য সমঝোতা না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
Leave a Reply