বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পারমাণবিক উত্তেজনা প্রশমনে সম্ভাব্য দ্রুত চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলে। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় মিত্ররা মনে করছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত রাজনৈতিক সাফল্য দেখানোর লক্ষ্যে গভীর কারিগরি আলোচনাকে উপেক্ষা করতে পারে।
ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সমঝোতা টেকসই হবে না। ২০১৫ সালের চুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ফেডেরিকা মোঘেরিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, পূর্ববর্তী চুক্তি চূড়ান্ত করতে ১২ বছর ধরে কঠোর আলোচনা ও প্রযুক্তিগত সমঝোতা প্রয়োজন হয়েছিল।
বর্তমানে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে ইরানের ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি—এই মজুত ধ্বংস অথবা বিদেশে স্থানান্তর করতে হবে। তবে ইউরেনিয়াম কোথায় পাঠানো হবে—তুরস্ক না ফ্রান্স—তা নিয়েই বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
ইরান পাল্টা দাবি করেছে, তাদের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে সামরিক আক্রমণ না করার নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ সহ্য করার সক্ষমতা দেখিয়ে তেহরান আলোচনায় শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো চায়, সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত হোক। কিন্তু ইরান এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করে এমন চুক্তিই গ্রহণ করবে। তবে ইউরোপীয়রা সতর্ক করেছেন—IAEA-এর পূর্ণ নজরদারি ছাড়া তড়িঘড়ি চুক্তি ভবিষ্যতে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
Leave a Reply