বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন
মো. আসাদুজ্জামান রিপন, গৌরনদী॥ সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারে (ক্ষুদ্র মেরামত) ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নামেমাত্র সংস্কার কাজ করে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের যোগসাজশে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করেন।
সে অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলো সংস্কারের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের আওতায় উপজেলার কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব সমরসিংহ, লাখেরাজ কসবা, টরকীরচর, ইল্লা, নরসিংহলপট্টি, বিল্বগ্রাম, উত্তর রামসিদ্দি, উত্তর চাঁদশী, কাঁঠালতলী, মিয়ারচর, জয়শুরকাঠি, সাহেবেরচর, দক্ষিণ হোসনাবাদ, কান্ডপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুকূলে দেড় লাখ টাকা করে সর্বমোট ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
সরেজমিন স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় থাকা টরকীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২টি পাকা ভবন রয়েছে। এর একটি ভবনের নির্মাণ কাজ গত বছর সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে কোনোটিই আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
অথচ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ওই বিদ্যালয়টিকে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় দেখিয়ে সংস্কারের জন্য দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাছান বলেন, পুরনো ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ার কারণে বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে ছাদে প্যাটেনস্টোন করা হয়েছে।
বেজগাতি মৈস্তারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২টি পাকা ভবন রয়েছে। এর মধ্যে কোনোটিই আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। অথচ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ওই বিদ্যালয়টিকে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকাভুক্ত করে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে।
এ বিদ্যালয়ে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজ করা হয়নি। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক কল্পনা রানী জানান, বিদ্যালয়টিতে আগে টিনশেড ঘর ছিল। ৩ বছর আগে নতুন পাকা ভবন নির্মাণ হয়েছে। বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন করা হয়নি। তবে বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে নতুন করে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, মূলত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যেসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সখ্য ও সুসম্পর্ক রয়েছে, সেসব বিদ্যালয় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও ক্ষতিগ্রস্তের তালিকাভুক্ত করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে জোগসাজশে জুন ক্লোজিংয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফয়সাল জামিল বলেন, আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার কাজ করার পর সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা অফিসার প্রত্যয়নপত্র দেয়ায় সেই সব প্রতিষ্ঠানকে বিল দেয়া হয়েছে। মহামারী করোনার কারণে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ এখনও শেষ হয়নি সেগুলোর কাজ চলমান রয়েছে।
Leave a Reply