সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে জানিয়েছে Al Jazeera।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। পরে কিছুটা সমন্বয়ের পর বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম দাঁড়ায় ১০৬ দশমিক ৯৯ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তাই মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে উদ্বেগ থাকলেও এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। সোমবার সকালে জাপানের নিকেই ২২৫ সূচক ০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
কূটনৈতিক অগ্রগতি থমকে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ দূতদের পাকিস্তান সফর বাতিল করেন। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদ ত্যাগ করায় প্রত্যাশিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
পরবর্তীতে আরাগচি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ সফরে যান এবং সেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেন। কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে রাশিয়ার মধ্যস্থতার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে।
রোববার ওমানে সংক্ষিপ্ত সফরের পর এই রাশিয়া সফর অনুষ্ঠিত হয়, যখন দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছিল। ট্রাম্প পূর্বে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও স্থায়ী চুক্তির বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ হয়নি।
এদিকে উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালীতে। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সামুদ্রিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ড জানায়, শনিবার মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করত।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং তেলের দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
Leave a Reply