বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধ আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একলাফে প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সরাসরি সামরিক হামলার তুলনায় নৌ অবরোধ কৌশলগতভাবে বেশি কার্যকর। তার মতে, এই অবরোধ ইতোমধ্যে ইরানের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে কঠিন চাপে ফেলেছে। প্রয়োজনে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসন নিজেদের ভোক্তাদের ওপর প্রভাব কমাতে বাজার স্থিতিশীল রাখার বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে।
অন্যদিকে তেহরান কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো কূটনৈতিক আলোচনা সম্ভব নয়। এতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, উত্তেজনা দ্রুত কমানো না গেলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং অনেক দেশকে নতুন অর্থনৈতিক চাপে পড়তে হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
Leave a Reply