বরিশালের ঐতিহ্য ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ Latest Update News of Bangladesh

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
Latest Update Bangla News 24/7 আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- inbox.voiceofbarishal@gmail.com অথবা hmhalelbsl@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩
সংবাদ শিরোনাম:
ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অবরোধ বহাল রাখলেন ট্রাম্প




বরিশালের ঐতিহ্য ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

বরিশালের ঐতিহ্য ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

বরিশালের ঐতিহ্য ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ




এম. কে. রানা, নিজস্ব প্রতিনিধি॥ ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। এটি বরিশালের অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ। যার রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ১৮৯৮ সালে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত তার পিতার নামে ব্রজমোহন ১২৬ বিঘা জমির উপর কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত। তবে ইতিহাস রয়েছে বরিশালের তৎকালীন ম্যাজিষ্ট্রেট রমেশ চন্দ্র দত্তের অনুপ্রেরণায় প্রখ্যাত সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত ১৮৮৪ সালে তারা বাবার নামে ব্রজমোহন ইন্সটিটিউট স্কুল (বিএম ইন্সটিটিউট) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

 

 

যা ১৮৯৮ সালে কলেজে উন্নীত হয়। তখন কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত ছিল। সেসময়ে এ কলেজের মান এতই উন্নত ছিল যে অনেকে একে দক্ষিণ বাংলার অক্সফোর্ড বলে আখ্যায়িত করেন। সে সময় থেকেই এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে দক্ষিণাঞ্চলে শিক্ষা বিস্তার করে আসছে। ওই সময় প্রবেশিকা পরীক্ষায় সারা ভারত বর্ষে শতকরা ২২ ভাগের বেশি শিক্ষার্থী পাস করেনি। কিন্তু বিএম ইন্সটিটিউট থেকে শতকরা ৮২ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করে। আর এতে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

 

 

স্বদেশী আন্দোলনের ফলে এই কলেজটি একটি বিপ্লবী চেতনা অর্জন করেছিল এবং ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে এর আদর্শের স্রোত ঘটেছিল। অশ্বিনী কুমার স্বদেশী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়লে তার সাথে সেই আন্দোলনে যুক্ত হন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ফলে ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়ে কলেজটি। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগ এবং অন্যান্য ঘটনায় দুই তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী দেশ ত্যাগ করে। এ কারণে তৎকালীন পন্ডিত ব্রজেন্দ্রনাথ চ্যাটার্জী, রাজোনিকান্ত গুহ, বাবু স্বাতীশ চন্দ্র যারা এ কলেজে গৌরব অর্জনের প্রচেষ্টা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে দেশ বিভাগের পরে এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য কিংবদন্তি শিক্ষক যেমন জীবনানন্দ দাশ, অধ্যাপক মোঃ হানিফ, কাজী গোলাম কাদের, অধ্যাপক শামসুল হক, ড. প্রানোতি বোস এই কলেজের সাথে বিজয়ী হয়েছেন। যথাযথ শিক্ষা দেওয়ার কারণে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এ কলেজটিকে ১৯২২ সালে প্রথমে ইংরেজী ও দর্শনশাস্ত্রে এবং পরে ধীরে ধীরে অন্যান্য শাখায় অনার্স কোর্স করার অনুমতি দিয়েছিল।

 

 

১৯২২-১৯৪৮ সময়টি ছিল বিএম কলেজের জন্য স্বর্ণযুগ। এ সাফল্য এমনকি স্যার উডবার্ন এবং অন্যান্য ইংরেজ উচ্চ আধিকারিকদের মন্তব্যও এনেছিল যে কলেজটিকে অক্সফোর্ডের সাথে স্থান দেওয়া উচিত। কিন্তু ১৯৪৭ সালে বিভাজন এ কলেজের জন্য এক ধাক্কা ছিল। সুতরাং অনার্স কোর্স বন্ধ ছিল। ১৯৬৪-৬৫ সালে বি.এম. কলেজে আবারও অনার্স কোর্স চালু হয়। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এ কলেজটিতে ২২টি বিষয়ে অনার্স ও ২১ টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু আছে। এ কলেজে বর্তমানে ১৮৫ জন দক্ষ ও বিচক্ষণ শিক্ষক মন্ডলী রয়েছেন। যারা কলেজের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাচ্ছেন।

 

 

বহু জ্ঞানী গুনী ব্যাক্তিরা এ কলেজ থেকে পড়ালেখা করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্তরে সুনাম কুড়িয়েছেন। যাদের পদরারণায় মুখরিত ছিল এ কলেজটি। এদের মধ্যে অন্যতম কৃষককূলের নয়ন মনি শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাত, কবি জীবনানন্দ দাশ, বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।কলেজে ছাত্রদের থাকার জন্য ৩টি (মুসলিম হোস্টেল, মহাত্মা অশ্বিনীকুমার হোস্টেল, কবি জীবনানন্দ দাশ হিন্দু হোস্টেল) এবং মেয়েদের জন্য চারতলা ভবনের ১টি হোস্টেল (বনমালী গাঙ্গুলী মহিলা হোস্টেল) রয়েছে।

 

 

কলেজের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে প্রায় ৪০ হাজার বই রয়েছে। কলেজটিতে ১টি বাণিজ্য ভবন, ২টি কলা ভবন, একটি অডিটোরিয়াম, ৪টি বিজ্ঞান ভবন ও ৩টি খেলার মাঠ রয়েছে। এছাড়া কলেজের দুই প্রান্তে দুটি বিশাল পুকুর কলেজের সৌন্দর্যকে করে তুলেছে মনোমুগ্ধকর।উল্লেখ্য, এ কলেজটি ৫২২, ৬২২, ৬৯৯ এর আন্দোলনের পাশাপাশি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এবং বিশেষত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে আখ্যায়িত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD