রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন
পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায়কে কেন্দ্র করে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধানখালী ইউনিয়নের গণ্ডামারী গ্রামে শনিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে এনজিও সংস্থা কোডেক–এর স্থানীয় শাখার কর্মীদের।
আহত খাইরুন বেগমকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতাল–এ ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বরে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার স্বামী নজির মোল্লা কর্মসংস্থানের জন্য কুয়েতে যান। কিন্তু বিদেশে চলমান সংঘাত পরিস্থিতির কারণে তিনি অর্থ পাঠাতে পারেননি। ফলে তিন সন্তানসহ অন্তঃসত্ত্বা খাইরুন মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। এর মধ্যেই এনজিও কর্মীরা নিয়মিত কিস্তি আদায়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শনিবার দুপুরে ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেনসহ কয়েকজন কর্মী বাড়িতে এসে বকেয়া কিস্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি সময় চাইলে তাকে অফিসে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাকে চুল ধরে টেনে বাইরে আনার চেষ্টা করা হয় এবং লাথি ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী পরীবানু জানান, গর্ভবতী নারী বারবার অনুরোধ করলেও অভিযুক্তরা ক্ষান্ত হয়নি। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মালা বেগমসহ এলাকাবাসী ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
ডা. ববি মালকার জানান, গৃহবধূর তলপেটে আঘাত থাকায় বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, যদিও ভ্রূণের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে কোডেকের ম্যানেজার মনির হোসেন বলেন, মারধরের ঘটনা সত্য নয়; কেবল অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। অন্যদিকে কলাপাড়া থানা–র ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি সামাজিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply