রবিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৫, ০৭:৪২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকার ও লঞ্চমালিকদের ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার (২০ মে) থেকে লঞ্চের অগ্রিম টিকেট বিক্রির কথা থাকলেও শুরু করা হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির অগ্রিম টিকিট বিক্রির জন্য নির্ধারিত সদরঘাট টার্মিনালের ৩৫টি টিকিট কাউন্টারের মধ্যে সবই বন্ধ ছিল। এতে করে টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে টার্মিনাল ত্যাগ করতে হয়েছে যাত্রীদের।
সোমবার দুপুরে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, লঞ্চের টিকিট বিক্রির জন্য ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালের নতুন ভবনে ৩৫টি টিকিট কাউন্টার থাকলেও কোনোটি থেকেই টিকিট বিক্রি করা হয়নি। বরং সব কাউন্টারই বন্ধ ছিল। কাউন্টারের সামনে হকারদের মালামাল ও ভ্যানগাড়ি এবং মোটরসাইকেল রাখা থাকতেও দেখা গেছে।
ফার্মগেট থেকে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমতিয়াজ আলী জানান, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সদরঘাট টার্মিনালে এসে কোনো লঞ্চ প্রতিষ্ঠানের টিকিট কাউন্টারে বিক্রেতাদের পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে কাউন্টারগুলোতে তালা দেওয়া ছিল। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বরিশাল রুটের পারাবত-১১ লঞ্চে গিয়ে ৩০ মে তারিখের অগ্রিম টিকিট চাইলে লঞ্চের লোকজন বলেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রি বন্ধ আছে। কবে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে তা মালিকপক্ষ বলতে পারবে।
জানতে চাইলে পারাবত-১১ লঞ্চের সুপারভাইজার ফরিদ শেখ বলেন, আমাদের লঞ্চে ১৮৮টি দ্বিতীয় শ্রেণি ও ৪টি ভিআইপি কেবিন রয়েছে। এখান থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। তবে অনলাইনের মাধ্যমে কিছু কিছু কেবিনের বুকিং দেওয়া হচ্ছে।
নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক আলমগীর কবির বলেন, গতকালের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সোমবার থেকে সব লঞ্চের কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা। কয়েকজন লঞ্চমালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাঁরা জানিয়েছেন, দুই-এক দিনের মধ্যে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি শুরু করা হবে। তবে অনলাইনের মাধ্যমে কিছু কিছু লঞ্চের ৩০ শতাংশ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই লঞ্চের যাত্রীদের হয়রানি করা যাবে না। লঞ্চ প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকিট কাউন্টার বন্ধ থাকার বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এর আগে রোববার সকালে ঢাকা নদীবন্দরের সদরঘাট টার্মিনালের নতুন ভবনের সভাকক্ষে ঈদ প্রস্তুতিমূলক সমন্বয় কমিটির সভায় জানানো হয়েছিল, সোমবার থেকে ঈদ উপলক্ষে যাত্রীবাহী লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে এবং ৩০ মে থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু হবে।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতকারী বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, ভোলাসহ বিভিন্ন জেলার ঈদে বাড়ি ফিরতে লঞ্চের যাত্রীদের হয়রানি রোধ ও সুবিধার্থে থেকে অনলাইনেও টিকিট বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ৩০ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
১৪টি প্রবেশ পথ ও গ্যাংওয়েতে যাত্রী নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান দফতর হতে মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। এছাড়া কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply