‘বিষ দেউক খাইয়া মইরা যাই’ বরগুনায় অসহায় জেলের ক্ষোভ Latest Update News of Bangladesh

মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
Latest Update Bangla News 24/7 আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] অথবা [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩




‘বিষ দেউক খাইয়া মইরা যাই’ বরগুনায় অসহায় জেলের ক্ষোভ

‘বিষ দেউক খাইয়া মইরা যাই’ বরগুনায় অসহায় জেলের ক্ষোভ




বরগুনা প্রতিনিধি।। সাগরে মাছ ধরার ওপর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটে জেলেদের হতাশার কথা জানাচ্ছিলেন জেলে নুর মোহাম্মাদ। বাংলা ট্রিবিউনতিনি বলেন, ইলিশের ভরা মৌসুমেও মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা। ‘৬৫ দিন মাছ না ধরলে খামু কী? মাইয়া-পোয়া লইয়া খয়রাত (ভিক্ষা) করা লাগবে। সরকার মোগো লগে এরহম হরলে মোরা যামু কই?’ হের চাইতে মোগো এন্ডি (বিষ) দেউক, খাইয়া মইরা যাই।

নুর মোহাম্মাদ বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যাওয়া ট্রলারের একজন ভাগি জেলে। তিন সন্তান, মা বাবা ও স্ত্রীকে নিয়ে সাত জনের সংসার তার। সাত জনের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, যার ওপর ভর করে চলে পুরো সংসার। ৬৫ দিন মাছ শিকার থেকে বিরত থাকলে পরিবার পরিজন নিয়ে তাকে না খেয়ে থাকতে হবে বলে জানালেন তিনি।

শুধু নুর মোহাম্মাদই নন টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার ফলে হতাশার ছাপ পড়েছে উপকূলের জেলে পল্লীগুলোতে।সাগরে মাছ ধরা জেলেরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ২০১৫ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ (আইন) অধিশাখা দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার।এতদিন এই নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন ছিল না।

তবে এ বছর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ আইনটি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্দেশনায় ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরায় ব্যবহৃত যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে স্থানীয় নদ-নদী থেকে জেলেরা মাছ ধরতে পারবেন।

জেলেরা আরও জানান, প্রথমে ৮ মাস জাটকা ধরা নিষেধ,পরে ২২ দিন মা ইলিশ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা, এরপর বিভিন্ন সময় ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এখন আবার শুরু হয়েছে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ‘জেলেদের ওপর এরকম জুলুম আল্লাহ সহ্য করবেন না। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।’

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, তাই জাল বুনে অবসর সময় পারবাংলাদেশ ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘সরকার সারাবছর নিষেধাজ্ঞা দেয়, আমরা কিছু বলি না। কিন্তু এবার ইলিশের ভরা মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। উপকূলীয় জেলেদের যৌক্তিক দাবি এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। ‘ জেলেদের দাবি মানা না হলে আন্দোলনে নামার বিষয়ে জোর দেন তিনি।

তবে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জেলেরা আরও বেশি বেশি ইলিশ শিকার করতে পারবেন। সময় দেওয়া হলে কয়েকগুণ ইলিশ বেশি উৎপাদন হবে। এতে জেলেরাই লাভবান হবেন।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

Shares
© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD
Shares