পিরোজপুরে অসহনীয় পানির বিলে পৌরবাসীর নাভিশ্বাস Latest Update News of Bangladesh

মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
Latest Update Bangla News 24/7 আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] অথবা [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩
সংবাদ শিরোনাম:
বরিশালে টাকার অভাবে হয়নি উন্নত চিকিৎসা, জন্মের ৪ দিন পর শিশুর মৃত্যু ১৫ দফা দাবি: আগামী ৩ দিন বন্ধ থাকবে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ২৬ জনের মৃত্যু মনপুরায় কার্গো থেকে চাউলের বস্তা পড়ে ঘাট শ্রমিকের মৃত্যু পিরোজপুরে জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেলেন কাঠমিস্ত্রি শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি অনলাইনে পাঠদান চলমান থাকবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী প্রতি বছরের মতো এবারও জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দুরকানীতে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু কলাপড়ায় অফিস কাম গবেষণাগার ভবনের উদ্বোধন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল এমপি মুলাদীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত ॥ চলছে বহুতল ভবন নির্মানের কাজ




পিরোজপুরে অসহনীয় পানির বিলে পৌরবাসীর নাভিশ্বাস

পিরোজপুরে অসহনীয় পানির বিলে পৌরবাসীর নাভিশ্বাস

পিরোজপুরে অসহনীয় পানির বিলে পৌরবাসীর নাভিশ্বাস




মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি॥ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভা দুই যুগের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠিত। কাগজে কলমে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির ঘোষণা করা হলেও নাগরিক সুবিধায় নেই তেমন কোনো অগ্রগতি। দীর্ঘদিন ধরে পৌরবাসী নানাবিধ সমস্যায় ভুগলেও বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল অন্যতম।

 

 

সম্প্রতি এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে টিকিকাটার সূর্যমনি বধ্যভূমি সংলগ্ন পানির প্রকল্পের কাজে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর পৌরবাসী যখন সুপেয় পানি পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিল তখন বেপরোয়া, অসহনীয় পানির বিল হয়ে ওঠে তাদের কাছে এক বোঝা। এরপর হাঁকডাক দিয়ে গত ৬ মাস ধরে পরীক্ষামূলক পানি সরবরাহের কাজ শুরু হলেও দিনের নির্ধারিত সামান্য কিছু সময় হাতেগোনা কয়েকটি ওয়ার্ডে পানি থাকে, অধিকাংশ ওয়ার্ডের গ্রাহকরা সুপেয় পানির সেবা থেকে বঞ্চিত। পৌর নাগরিকের একটি বিরাট অংশ এ পর্যন্ত বাসা-বাড়িতে মিটার স্থাপন না করে পানি সংযোগের বাইরে রয়েছেন।

 

 

পরীক্ষামূলক সেবা প্রদানের আগে শহীদ মিনারে উপস্থিত জনতার সামনে পৌর মেয়র প্রতিশ্রুতি দেন, শতভাগ পানির পরিশুদ্ধতা না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কাজের শুভ উদ্বোধন করবেন। এদিকে সে উদ্বোধনী কার্যক্রমের পূর্বেই গ্রাহকদের বাসা-বাড়িতে পানির কাল্পনিক বিল প্রদান করা হচ্ছে।

 

 

পরীক্ষামূলক অপরিশুদ্ধ পানি, শহরে বসবাস করা প্রথম শ্রেণির কিছু পরিবার ছাড়া বাকি সব এলাকায় এর ব্যবহার এখনও শুরু হয়নি। অধিকাংশ বাসা-বাড়িতে পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকায় পানির অপচয় রোধে সংযোগ পাইপের মাথাগুলো আগুনে পুড়িয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। অথচ বিকল অবস্থায় পরে থাকা ওই সংযোগ থেকে এক ফোটা পানি ব্যবহার না করেও তাদের হাতে মোটা অংকের বিল কাগজ পৌর কর্তৃপক্ষ ধরিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে গোটা পৌরবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

 

 

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় পানির বিল প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা ২০পয়সা, বরিশাল বিভাগের প্রায় প্রত্যেকটি পৌরসভায় আবাসিক ইউনিট চার্জ ১৫ টাকা। পার্শ্ববর্তী সকল পৌরসভায় সহনীয় পর্যায় থাকলেও শুধু ব্যতিক্রম মঠবাড়িয়ায়। মঠবাড়িয়ায় আবাসিক ৩৫ টাকা ও বাণিজ্যিক ৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা সেবার বিপরীতে অসামঞ্জস্যতা বলে মনে করেন পৌরবাসী। পরিপূর্ণ সেবা না পেয়ে হঠাৎ ভরদুপুরে এ ধরনের অকল্পনীয় বিলের কাগজ হাতে পেয়ে আকস্মিক বজ্রপাতের সাথে তুলনা করছেন তারা। এই ভুতুড়ে ও কাল্পনিক বিল তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। একাধিক ক্ষুব্ধ নাগরিক লকডাউনের পরেই এ বিল বাতিলে দুর্বার আন্দোলনে নামবে বলে শোনা যাচ্ছে।

 

 

৪নং ওয়ার্ডের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস নিজের চিন্তা-চেতনায় ঘাপটি মেরে আছে। কিভাবে পৌরসভার অর্থে নিজের উন্নয়ন করা যায় সেই চিন্তায় তিনি ব্যস্ত। নামে মাত্র প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও একটি অভিভাবকহীন শহরের বাসিন্দা আমরা। কোথাও কোনো অভিযোগের স্থান নেই। কোনো সমস্যার কথা উত্থাপন করলে সাথে সাথে মিষ্টি কথার ফুলঝুড়িতে ভিজিয়ে দিতে তিনি শতভাগ সক্ষমতা অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার ফসল ছিল কিছু না পেলেও অন্তত একটু পানি পেতে যাচ্ছি, তা না পাওয়ার আগেই আমার বাসার পানির বিল নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার টাকা। যা আমার পরিবারকে হতবাক করে দিয়েছে। জানা মতে, বিশ্বের কোনো শহরে এতো চড়া মূল্যের পানির বিল আছে কি-না তা আমার জানা নেই। এ রাক্ষুসে পানির বিল থেকে অতিদ্রুত পৌরবাসী মুক্তি চায়।

 

 

১নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার নাজমুল হাসান কামাল মুন্সি বলেন, এ মনগড়া নাটকীয় পানির বিলের আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

 

 

পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পংকজ সাওজাল বলেন, পার্শ্ববর্তী জেলার পৌরসভার তুলনায় আমাদের পৌরসভার পানির বিল দ্বিগুণেরও বেশি ধরা হয়েছে। তাছাড়া এতে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। যা বিষ্ফোরিত হয়ে অপরিশোধিত পানি রাস্তা বা ড্রেনকে প্রতিনিয়ত পরিশোধন করছে। পানির লোক নিয়োগ দেওয়া হলেও এগুলো দেখভাল করার কোনো লোক নেই। আর সে পানি ব্যবহার না করে তার মাশুল গুণতে হচ্ছে জনগণকে।

 

 

উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফজলুল হক মনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশব্যাপী গণমানুষের উন্নয়নের জন্য মহান কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিক তারই ধারাবাহিকতায় তিনি মঠবাড়িয়া পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত বিশুদ্ধ পানি সংকট উত্তরণের জন্য এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করে দেন। নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত পৌরবাসীকে পানির বিল কাগজ ধরিয়ে দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কিছুটা হলেও স্বস্তিতে ছিল যে, মৃত্যুর পূর্বে অন্তত এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করে মরতে পারব। অথচ পৌরবাসী সে পানির সামান্য স্পর্শ না নিয়েই হাজার হাজার টাকার বিল ভাউচার কর্মহীন করোনার এ দুর্যোগের মধ্যে তাদেরকে চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছেন। আর সে সারিতে আমিও যুক্ত হয়েছি। আমার দৃষ্টিতে এ পানি পৌরবাসীর সেবার পরিবর্তে তাদের রক্ত শোষণ করার একমাত্র হাতিয়ার। যে কোনো মূল্যে আমরা এর থেকে পরিত্রাণ চাই।

 

 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর বলেন, সাপ্লাইয়ের পানি থেকে এক ফোটা পানি ব্যবহার করিনি। অথচ ৮৮৩ ইউনিট পানির বিল কাগজে ৫৮ হাজার ৮ শত টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা ঢাকা ওয়াসার তুলনায় চারগুণ। চলমান পানি সরবরাহ তো পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। এর শতভাগ পরিশুদ্ধতা এখনও হয়নি। এ মুহুর্তে গ্রাহকদের বিল নির্ধারণ করার কোনো যুক্তিকতা নেই। তাছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডারের সাথে এ পানি বিশুদ্ধকরণের অতিরিক্ত অর্থকে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এ প্রহসনের পানির বিল পৌরবাসীর বুকের ওপর এক জগদ্দল পাথরে রূপান্তরিত হয়েছে। আমি এ কাল্পনিক বিলের বিরোধীতা ও তার চরম প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

 

 

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালেক বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার পানির বিলের অসঙ্গতির ব্যাপারটি আমাদের কাছে একাধিক পৌরবাসী অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পৌরমেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌসকে অবহিত করলে তিনি বলেন, আগামী ১৫ আগষ্টের পূর্বেই মঠবাড়িয়ার বিভিন্ন মহলের সচেতন নাগরিকদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পৌর নাগরিকদের পানির বিল সহনশীল মাত্রায় রেখে নির্ধারণ করা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

Shares
© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD
Shares