মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বরিশাল বিভাগ জুড়ে ২ লাখ ৬০ হাজার গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যার সংখ্যা কয়েক দিনে আরো বাড়তে পারে বলেও ধারণা করছে বিভাগীয় প্রাণীসম্পদ অধিদফতর।
বিভাগে এ বছর প্রায় চার লাখের কাছাকাছি পশু কোরবানির চাহিদা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যা গতবছরের তুলনায় ৫/১০ শতাংশ কম। পশু প্রস্তুত করতে যে খরচ হয়েছে তা উঠানো যাবে কিনা তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। খামারিরা বলছেন, কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশু বিক্রি করে লাভের আশা তো দূরের কথা, বিক্রি করা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
বরিশাল প্রাণীসম্পদ অধিদফতর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় গত বছর কোরবানি পশুর চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চার লাখ ৪৩ হাজার। এবছর করোনা পরিস্থিতিতে গতবছরের চেয়ে প্রায় ৫/১০ শতাংশ কমিয়ে ৪ লাখ পশু কোরবানি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট এই দফতরটি।
গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬০০ পশু স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল। বাকি পশু বিভাগের বাইর থেকে বিশেষ করে কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, ঝিনাইদহসহ অন্যান্য জেলা থেকে আনা হয়েছিল। কিন্তু এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট চাহিদার পূরণ করতে বরিশাল বিভাগের ১৯ হাজার ৮০৬ জন খামারির কাছ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত কোরবানির জন্য বিক্রিযোগ্য দুই লাখ ৬০ হাজার পশুর তালিকা পাওয়া গেছে।
এছাড়া বিভাগে পারিবারিকভাবে লালন-পালন করা (গৃহস্থালি) আরো প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানা গেছে। বাকি ২০/২৫ শতাংশ পশু প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বরিশাল বিভাগের বিভাগের বাইরে থেকে বিশেষ করে কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, ঝিনাইদহসহ অন্যান্য জেলা থেকে এনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে পশু পালন করতে তাদের গত বছরের তুলনায় এবছর খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। পরিবহন খরচসহ সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ শত টাকায় মন প্রতি ভুট্টা কিনতে হচ্ছে ৯০০ টাকায়। ১৫০ থেকে ২০০ টাকার ভুসি কিনতে হচ্ছে ২৫০ টাকায়। করোনার প্রাদুর্ভাব এড়াতে খামারে পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুনাশক ও রোগবালাই নাশক এবং পরিচর্যাকারীদের পেছনেও খরচ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।
জেলার উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউপির মুন্ডাপাশা গ্রামের মো. গোলাম হোসেন ঢালী নামে এক খামারি জানান, কোরবানির এক-দেড়মাস আগেই স্থানীয় খামারগুলোতে পাইকারদের আনাগোনা আর খোঁজ-খবর থাকে। কিন্তু করোনার কারণে এবছর ক্রেতাদের তেমন কোনো আনাগোনা আর খোঁজ-খবর নেই। করোনায় বেশি দামে খাদ্য, ঔষধ কেনাসহ অন্যান্য খরচ চালিয়ে গরু-ছাগল কোরবানিযোগ্য করতে যে খরচ হয়েছে তা বিক্রি করে লাভের মুখ দেখা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন খামারিরা।
Leave a Reply