শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। জ্বালানি তেল, কয়লা ও এলএনজি আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রীষ্মজুড়ে লোডশেডিং অব্যাহত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)–এর গ্রীষ্মকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজন। তবে প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থানের সংকট তৈরি হওয়ায় এলএনজি আমদানি পরিকল্পনা ছোট করা হয়েছে এবং ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্র কম চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য এখন গ্যাসভিত্তিক ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো।
২১ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় বিদ্যুৎ খাতে ২ হাজার ৬৭ কোটি ৫ লাখ টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে। তবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, এই অর্থ শুধুমাত্র বেসরকারি রেন্টাল ও আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ব্যবহার করা যাবে এবং এক খাতের ভর্তুকি অন্য খাতে স্থানান্তর করা যাবে না।
পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানের কারণে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। ডলারের দাম বা জ্বালানি মূল্য বাড়লে এই পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আগামী তিন মাসে এলএনজি আমদানিতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়তে পারে।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ছিল প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি ৫৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে লোডশেডিং অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি, উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক চাপ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত বর্তমানে গভীর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বিকল্প জ্বালানি উৎস এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply