মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
সাইদুর রহমান পান্থ॥ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ও কলসকাঠি ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক ‘তালুকদার বাড়ি সড়ক’। ৫ কিলোমিটার এ সড়কের প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা মাটির (কাঁচা)। বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ই এখানে কাদা-পানি থাকে। এ পথে চলতে গিয়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ নাকানিচুবানি খাচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই জনপ্রতিনিধিদের।
একইভাবে উপজেলার রঙ্গশ্রী, ভরপাশা, কবাই, দুদলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে কাঁচা রাস্তায় লাখো মানুষকে ভোগান্তি সইতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়- বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া, গৌরনদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা এমনকি বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও মাটির সড়কের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বহু মানুষ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ভোট এলে আমাদের কদর বাড়ে, নানা প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর আর তাদের (জনপ্রতিনিধি) দেখা পাওয়া যায় না। এলাকার উন্নয়ন হয় না, শুধু তাদের নিজেদের উন্নয়ন ঘটে।
তালুকদার বাড়ি সড়ক ব্যবহারকারী বেসরকারি সংস্থার কর্মী শারমিন লুনা ও হান্নান মৃধা বলেন, এ রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই আছাড় খেতে হয়। কোনো গাড়ি নিয়েও চলাচল করা যায় না। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা তা দেখেও দেখেন না। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এ উপজেলার (বরিশাল-৬ আসন) সংসদ-সদস্য জাতীয় পার্টির নেতা (নাসরিন জাহান রত্না)। যার কারণে তিনি কাজ আনতে পারছেন না। উন্নয়নও হচ্ছে না এখানে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গারুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এএসএম জুলফিকার হায়দার ও উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নু কোনো মন্তব্য করেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় বলেন, প্রাচীনতম ইউনিয়ন কলসকাঠির এ সড়কটি মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে। আমি কয়েকবার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এ সড়কের বিষয়টি তুলেছি। খুব শিগগিরই এর একটি সুরাহা হবে।
জানতে চাইলে সংসদ-সদস্য নাসরিন জাহান রত্না বলেন, ‘সড়কটির জন্য আমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। জেলা এলজিইডিকেও জানিয়েছি। আশা করি দ্রুতই কাজ হবে।’ ভোটের পর জনগণের খোঁজ না রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অভিযোগ ঠিক নয়, ক’দিন আগেও আমি কয়েক এলাকায় ত্রাণ দিয়েছি।
বরিশাল সদর আসনের (বরিশাল-৫) সংসদ-সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, বিভাগীয় এ শহরে এখনও কেন মাটির রাস্তা থাকবে। আমি মাত্র ২ বছর ধরে কাজ করছি, গত ১৫ বছর যিনি এমপি ছিলেন তিনি কী করেছেন। রোববারও সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। অনেকগুলো প্রজেক্ট দেয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই একটি ভালো ফলাফল আসবে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোনো কাজ হচ্ছে না। সেখানে তো আমি হস্তক্ষেপ করতে পারি না। ভাঙা সড়কের মেরামত চলছে তাও ৩ নম্বর ইট দিয়ে।
এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, সরকার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি বছর নতুন নতুন সড়ক কার্পেটিংয়ের আওতায় আসছে। আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক সড়ক তালিকা করে প্রকল্প দেয়া হবে। এলজিইডির মাধ্যমে এ কাজ করা হচ্ছে।
Leave a Reply