মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
তরিকুল ইসলাম,ববি প্রতিনিধি॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমির হামজা ও তার মা-বড় বোন এলাকার বখাটের হাতে বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদেরকে বেধরক পেটানোর পর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যান সন্ত্রাসীরা। কেউ সাহায্য না করায় আহত ওই শিক্ষার্থী নিজেই তার মা ও বোনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। তার মা গুরুতর আহত হওয়ায় ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার কুলিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান, ওই শিক্ষার্থী নিজেই।
তিনি বলেন, আমাদের বাড়ি সংলগ্ন পাশের জমিতে একটা অব্যবহ্নত একটি পাকা বাড়ি আছে সেখানে এলাকার প্রভাবশালী যুবক-কিশোর এসে গাঁজা, ফেনসিডিল সেবন করে। তারা মাতাল হয়ে জোরে ডাকাডাকিসহ বিভিন্নভাবে আমাদেরকে সমস্যা করে । এতে তাদেরকে কিছু বললে তারা আমার পরিবারকে মারার হুমকি দেয়। কারন আমার পরিবারে বাবার আত্নীয় বলতে কেউ নেই, তিনিও মানসিক রুগী তাই তাকে সবাই পাগল বলে, আমাদেরকেও পাগলের ছেলে বলে উপহাস করে।
আমার মায়ের আত্নীয় স্বজনরাও আমাদের কোন সাহায্য করে না। তাই ওই বখাটে ছেলেদের আমরা কিছু বললেও লাভ হয় না।
তিনি জানান, একদিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউ,এন,ও) স্যারকে বললে তিনি ব্যবস্থা নিয়ে এদেরকে কিছুটা দমন করেছিলো কিন্তু ইউ, এন,ও স্যার বদলি হয়ে যাওয়ার পর ওই বখাটেরা আমার পরিবারকে টার্গেট করে ।
তিনি বলেন, আজ সকালে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বখাটেরা আমার মায়ের গায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ফুটবল নিক্ষেপ করে অথচ আমার মা যেখানে বসা ছিলো সেখানে ফুটবল আসার কথা ছিলো না। এতে মা তাদেরকে ফুটবল নিয়ে কথা বলা মাত্রই দশ-পনেরজন লাঠি-সোটা নিয়ে মা’কে লাথি মেরে বেধরক পেটাতে থাকে, আমার বড় বোন( এম এম কলেজ ছাত্রী) মা’কে বাঁচাতে গেলে তাকেও নির্মমভাবে পিটিয়ে যখম করে ।
আমি ও আমার ভাই তখন ঘুমিয়ে ছিলাম। চিৎকার শুনে উঠে দেখি আমার বড় বোন ও মাকে সবাই মিলে এমনভাবে পেটাচ্ছে,মনে হচ্ছিল তাদেরকে আর বাঁচিয়ে রাখবে না। এরপর আমাকে ও আমার ভাইকেও বেঁধে পেটাতে থাকে । এতে ভাই ও আমার মাথা ফেঁটে রক্ত বের হতে থাকে। পরে অনেক আকুতি করলে তারা আমাদের ছেড়ে দেয়। ওইখানে অনেক মানুষ ছিলো সবাই চয়ে চেয়ে দেখে কিন্তু কেউ আমার মা-বোনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। আমি কাছে গিয়ে দেখি আমার মা,বড় বোনের শরীর থেকে রক্তের ঢলক নামছে । আমার মা-বোন আ’ধা ঘন্টার মতো সেখানে পড়ে থাকলেও কেউ একটা এম্বুলেন্স বা গাড়িও ডাকেনি। তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়ার কোন মানুষ পায়নি। আমি নিজেই আহত অবস্থায় তাদেরকে কোলে, পিঠে নিয়ে ইজি বাইকে করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
ওই শিক্ষার্থী তার মা’কে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমার মা’কে এমন ভাবে পেটনো হয়েছে সঠিক চিকিৎসা না পেলে তিনি হয়তো মারা যাবেন। আমার বোনকে পৈশাচিকভাবে পিটিয়ে পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে দিছে । আমি এর বিচার চাই। আমার কাছে বৃত্তির তিন হাজার টাকা ছিলো সে টাকা দিয়ে মা-বোনকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখন আমার কাছে টাকাও নেই।
পরিবারের আর আয়ের কেউ নেই। মাকে বাঁচাতে এখন অনেক টাকা লাগবে। একদিনে ফার্মেসীতে সাত হাজার টাকা বিল এসেছে। কিন্তু আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা নেই।
এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত রহমান তার নিকট অভিযোগ আসেনি বলে জানান। তিনি বলেন, যারা এ কাজ করেছে তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সে অনুযায়ী পুলিশি সহযোগিতা এবং নির্যাতিতদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হবে জানিয়েছেন তিনি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করেছি। সিনিয়র এএসপির সাথে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে পরবর্তীতে মেসেজও করেছেন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তার যদি মনে হয়, কোথাও আইনী সহায়তা পাচ্ছেন না তাহলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এছাড়াও বিষয়টি অবহিত হওয়ার সাথে সাথে কিছু আর্থিক সহায়তা করেছেন বলেও জানান তিনি।
Leave a Reply