মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ অমাবশ্যার জোয়ারের পানিতে গত দুইদিন ধরে থই থই করছে বরিশাল নগরীর অধিকাংশ এলাকা। বুধবার দুপুর থেকে পানিবন্দি নগরবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। বুধবার দুপুর থেকে কর্তীনখোলার নদীর পানি বুধবার বিকেলে ৪৫ সেন্টিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পযর্ন্ত ৫২ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর পানি উপচে নগরীর অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে অধিকাংশ এলাকার মানুষ এক প্রকার গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার, বাকেরগঞ্জের বুড়িশ্বর নদীর বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার, হিজলার ধর্মগঞ্জ নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার, আবুপুরের নয়াভাঙ্গগুনি নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার, ভোলার দৌলতখানের সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৯ সেন্টিমিটার, ভোলা খেয়াঘাট সংলগ্ন তেতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুধবারের ন্যায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে তলিয়ে গেছে। নদীর সঙ্গে সংযোগ থাকা ড্রেন দিয়ে পানি ঢুকে ডুবে যায় নগরীর প্রধান সড়ক সদর রোডের একাংশ। সন্ধ্যা গড়াতে না গড়াতেই অশ্বিনী কুমার হল এলাকা ও তার আশপাশের সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়।
সেই সাথে পানির স্রোতের গতিবেগ প্রবল থাকায় বরিশান সদর উপজেলার লামচরি, বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর, রহমতপুর, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সদর, শ্রীপুর, চরগোপালপুর, উলানিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নদী তীরবর্তী মানুষের মাঝে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট অনেকটাই কর্দমাক্ত হয়ে গেছে। বিশেষ করে নগরের ভাঙা রাস্তার খানা-খন্দগুলো পানি জমে যানবাহন ও মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত হচ্ছে।
এলাকার মানুষ ও গবাদি পশু, ফসলি জমি, পুকুর তলিয়ে গিয়ে মাছ ও ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ও রাস্তাঘাট ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নিম্মি ও চরাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার।
মেঘনার তীরবর্তী মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন জানান, পানিবন্দি মানুষদের বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যর পক্ষ থেকে তাদের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুম বলেন, অমবশ্যার প্রভাবে সাগরে অস্বাভাবিক জোয়ার এবং উজানের পানি মেঘনার দিকে প্রবাহিত হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের সবকয়টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরী-সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পানি গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পযর্ন্ত বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তখনও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছিল। একই সময়ে মেঘনায় বিপৎসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি বয়ে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের সব নদীর অবস্থা একই বলে পাউবোর এ প্রকৌশলী জানান। এ অবস্থা আরো তিন চারদিন থাকার সম্ভবনা রয়েছে।
Leave a Reply