শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশে ইতোমধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে এবং সংক্রমণের ধরন আগের চেয়ে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ সভায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশের চারটি জেলা—নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারীতে চারজন নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং তাদের প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এতে মৃত্যুহার দাঁড়ায় শতভাগ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে নওগাঁর একটি ঘটনা। সেখানে ৮ বছর বয়সী এক শিশুর শরীরে আগস্ট মাসে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়, যা ছিল দেশের প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’। শিশুটি শীতকাল ছাড়াই সংক্রমিত হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা এটিকে নতুন ঝুঁকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তদন্তে জানা যায়, বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল খাওয়ার মাধ্যমেই শিশুটি সংক্রমিত হয়েছিল।
প্রবন্ধে বলা হয়, নিপাহ ভাইরাস শুধু প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে নয়, মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে। প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণ ঘটে, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।
সভায় সভাপতিত্বকারী আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, ‘২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস আমাদের জন্য বড় ওয়ার্নিং সিগন্যাল। নিপাহ এখন সারা বছরই হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।’
নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply