বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিতে প্রবাসী ভাই-বোনেরা স্বস্তি এনে দিয়েছেন। তিনি একে স্বাধীনতা দিবস এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি আরও জানান, ১৬ বছরের শাসনামলে শেখ হাসিনার সরকার দেশের অর্থনীতিকে ভয়াবহভাবে লুটপাট করেছিল এবং সেই সময়ের ভুক্তভোগীরা ছিলেন দেশের সাধারণ মানুষ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ওই সরকারের পালিয়ে যাওয়ার সময় অর্থনীতি পুরোপুরি লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ক্রমান্বয়ে অর্থনীতির অন্যান্য সূচকগুলো ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে, তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মূল্যস্ফীতি। ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৯.৩২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা গত ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। আগামী জুনে এটি ৮ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির ক্ষতি পূরণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন এবং তাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহতভাবে বেড়েছে। “ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ আড়াই বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে,” বলেন ড. ইউনূস। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য সরকার প্রক্রিয়াগত নানা বিষয় সহজ করে দেয়ার চেষ্টা করছে যাতে তারা ভোগান্তির শিকার না হন। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অর্থ পাচারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এই অর্থ পাচার বেশ কিছু অভিনব পদ্ধতিতে করা হয়েছে। “বিদেশে পড়াশোনার জন্য সন্তানের কাছে টাকা পাঠানোর নামে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে,” উল্লেখ করেন তিনি।
অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, “আইন, নিয়ম এবং নীতির অবনতি ঘটলে এমন দুর্নীতির ঘটনাগুলি সম্ভব হয়ে ওঠে,” এবং তিনি উল্লেখ করেন, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক তৎপরতা জোরদার করার কথা।
Leave a Reply