বিএনপি’র রাজনীতি নিয়ে তৎপর তারেক, বিপাকে নেতারা Latest Update News of Bangladesh

শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
Latest Update Bangla News 24/7 আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] অথবা [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩




বিএনপি’র রাজনীতি নিয়ে তৎপর তারেক, বিপাকে নেতারা

বিএনপি’র রাজনীতি নিয়ে তৎপর তারেক, বিপাকে নেতারা




এম. কে. রানা:বিএনপি’র দূর্গ খ্যাত বরিশালে পর পর দুটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর ভরাডুবির কারনে হঠাৎ করেই বরিশাল বিএনপির রাজনীতি নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জানতে চেয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সর্বশেষ কার্যক্রম। আর এতে করে অনেকটা বিপাকে পড়েছে বরিশাল বিএনপির শীর্ষ নেতারা। দলীয় সূত্রে জানা যায়, খুব শীঘ্রই সরকার বিরোধী আন্দোলনে যাবে বিএনপি। তাই দল পুর্নগঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন তারেক রহমান। এ কারনেই যে এলাকাগুলোতে বিএনপি’র দূর্গ হলেও বিগত নির্বাচনে সেখানে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন সেদিকে নজর দিয়েছেন তারেক রহমান। তাছাড়া তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করার খবরও অজানা নয় তারেক রহমানের।

স্বাধীনতার পর থেকেই বরিশালকে বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে ধরা হতো। তবে গত সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারের বিপরীতে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পান অপেক্ষাকৃত তরুন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তরুন হলেও সাংগঠনিক দক্ষতায় বিজয় হন সাদিক। আর ওই নির্বাচনে ভরাডুবি হয় সরোয়ারের। এরপর গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারের বিপরীতে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীমকে। সেখানেও হার মানে সরোয়ার। আর এ হারের কারণ সরোয়ার নিজেই বলে দাবী তৃণমূল নেতাকর্মীদের। তারা জানান, বিগত নির্বাচনগুলোতে মজিবর রহমান সরোয়ার যেভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ বা প্রচার করেছেন এবার সেটা করেননি তিনি। অবশ্য পুলিশী হয়রাণী ছিল বলেও দাবী করেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বরিশালে অধিকাংশ সময়ই ক্ষমতার বাইরে ছিল আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ‘বিএনপি অধ্যুষিত’ এই নগরীর মেয়র হয়েছিলেন প্রয়াত এ্যাড. শওকত হোসেন হিরন। তিনি বিজয়ী হয়ে অনেক উন্নয়ন কাজই করেছিলেন। এরপরও ২০১৩ সালের নির্বাচনে তাকে হারিয়ে বিজয়ী হন বিএনপি প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল। এরপর বরিশালের উন্নয়নের চাকা থমকে ছিল পাঁচটি বছর। তাই উন্নয়নের স্বার্থে তরুন নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে ভোট দিয়েছেন নগরবাসী। অন্যদিকে সংসদ সদস্য ও সিটি করপোরেশনে অধিকাংশ সময় নির্বাচিত হয়েছে বিএনপি। কিন্তু নির্বাচিত হয়ে জনগণের জন্য কোনো কাজ না করায় জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।

বরিশাল মহানগর বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাংগঠনিক দুর্বলতা, কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্বহীনতা, একের পর এক কৌশলগত ভুল, অযোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া, নির্বাচনী প্রচারকালে বিরোধী পক্ষের হামলা-মামলার পরও নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত না নেয়া এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। ওই নেতা বলেন, ইতিপূর্বে বিসিসি সহ সংসদ নির্বাচনে সব সময়ই এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারকে গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্র। তাই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তাদেরও গা-ছাড়া ভাব ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, বরিশালে সরোয়ারের একক আধিপত্য দীর্ঘদিনের। কর্মীদের মূল্যায়ন কখনোই করেননি তিনি। যে কারণে এবারের নির্বাচনে কর্মীদের পাশে পাননি সরোয়ার। তাছাড়া নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে জেলা উপজেলা ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করাই তার উদ্দেশ্য। ফলে দলের ত্যাগী নেতারা পদ-পদবী বি ত থাকেন। এছাড়া মহানগরীর অনেক ওয়ার্ড কমিটির মতোই বরিশালের অনেক ইউনিয়নে এখনো বিএনপি বা অংগ সংগঠনের কমিটি নেই বলেন তিনি।

বরিশাল জেলা বিএনপি সভাপতি (দক্ষিণ) এবায়দুল হক চান বলেন, কোতয়ালী বিএনপি নিয়ে আভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল। কেননা মনোনয়ন পেলে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চান সবাই। কিন্তু আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এ ধরণের ক্ষমতার প্রয়োগ আর চলবে না। তালিকা এবং কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, কোতয়ালী বিএনপির আভ্যন্তরীন সমস্যা থাকায় কমিটি হয়নি। আমার ৫টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভায় ৮টি ইউনিট কমিটি করা আছে। আমার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও ৬টি থানা কমিটি করা আছে। এছাড়া বাকেরগঞ্জে বিভেদ থাকায় বিগত নির্বাচনের পূর্বে সদস্যদের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি ভাঙা হয়েছিল। তিনি বলেন, অনেক ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌরসভায় অনেক নেতা মামলা খেয়ে পলাতক রয়েছেন, কেউবা মারা গেছেন। তবে ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই যেখানে কমিটি নেই সেই কমিটি গুলো পুনর্গঠন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি বলেন তিনি।

মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া বলেন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থার প্রতিবেদন আগামী ৭ দিনের মধ্যে নগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বরিশালের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠিতে রিজভী আহমেদ উল্লেখ করেছেন, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এ তথ্য জানাতে হবে তারেক রহমানকে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় শনিবার রাতে জরুরি সভা করেছে মহানগর বিএনপি। মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার সভায় সভাপতিত্ব করেন। মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করীম রনি সভায় জানিয়েছেন আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে কলেজ ও ওয়ার্ড কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। মহানগর যুবদলের সভাপতি আক্তারুজ্জামান শামীম জানিয়েছেন, তারা কিছু ওয়ার্ডে কমিটি করেছেন। বাকিগুলো দ্রুত সম্পন্ন করবেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকেও একই তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ১৪ মার্চ লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরিশাল উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির ১০ জন নেতার সঙ্গে কথা বলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

Shares
© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD
Shares