বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইসরায়েলের উদ্দেশে পাঠানো সামরিক সরঞ্জাম জব্দের ঘটনায় ইউরোপে অস্ত্র পরিবহন ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো দুটি চালান বেলজিয়ামে আটক হওয়ার পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।
সূত্র অনুযায়ী, ইসরায়েলের জন্য সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী উড়োজাহাজ বেলজিয়ামের আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় কর্তৃপক্ষ অভিযান চালায়। সতর্কবার্তা দেয় ব্রিটিশ অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ডিক্লাসিফাইড, বেলজিয়ান সংগঠন ভ্রেইডেসাক্টি, আইরিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডিচ এবং আন্তর্জাতিক কর্মী সংগঠন প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট। তারা অভিযোগ করে, বেলজিয়ামের লিয়েজ বিমানবন্দর হয়ে নিয়মিত অস্ত্র পরিবহন চলছে।
এরপর ২৪ মার্চ তল্লাশি চালিয়ে আগের দিন যুক্তরাজ্য থেকে আসা দুটি চালান জব্দ করা হয়। পরীক্ষায় সামরিক বিমানের যন্ত্রাংশ ও অগ্নিনির্বাপক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পাওয়া যায়। অভিযোগ করা হয়েছে, চালানগুলো প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে পরিবহন করা হয়েছিল।
দক্ষিণ বেলজিয়ামের ওয়্যালুন আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, মার্কিন অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠান মুগ এই সরঞ্জাম সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। কোম্পানিটির উলভারহ্যাম্পটন কারখানা থেকে পূর্বেও একই পথে সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল।
তদন্তে জানা যায়, ওপেন এক্সপোর্ট লাইসেন্স ব্যবহার করে এসব যন্ত্রাংশ সাধারণ বিমানের যন্ত্রাংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অথচ বাস্তবে এগুলো সামরিক প্রশিক্ষণ বিমানে ব্যবহৃত হয়। অনুসন্ধান অনুযায়ী, একই পদ্ধতিতে অন্তত ১৭টি চালান যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলের পথে পাঠানো হয়েছে।
মুগ কোম্পানির তৈরি এম-৩৪৬ বিমানের অ্যাকচুয়েটর ইসরায়েলি পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়। তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া তথ্য বলছে, বেলজিয়াম হয়ে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে স্পষ্ট কোনো নথি নেই।
গাজা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সরকার অস্ত্র রপ্তানির ৩০টি লাইসেন্স স্থগিত করলেও কিছু বিশেষ সামরিক কর্মসূচির জন্য ছাড় রাখা হয়েছিল।
ওয়্যালুন সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রানজিট লাইসেন্স ছাড়া এসব মালামাল পরিবহন আইনবিরোধী। বেলজিয়াম সরকার জানিয়েছে, কোনো আবেদন জমা পড়েনি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেদন এলে তা সরাসরি বাতিল করা হতো।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
Leave a Reply