শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ॥ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব দেশের জ্বালানি বাজারেও পড়লেও জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং জাতীয় চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এপ্রিল ও মে মাসে জ্বালানির কোনো ঘাটতি হবে না। একই সঙ্গে জুন মাসের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত মজুত নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শোধনাগারের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত অন্তত দুই মাসের জন্য যথেষ্ট। তার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশে ডিজেল রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ টন, পেট্রোল ১৮ হাজার ২১ টন এবং ফার্নেস ওয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন।
এদিকে ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দেশে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। মার্চ মাসের শুরুতে পেট্রোল ও অকটেনের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সাময়িকভাবে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়।
বর্তমানে বাজারে সরবরাহ গত বছরের বিক্রির ধারা অনুযায়ী সমন্বয় করে পরিচালনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আতঙ্কজনিত চাহিদা বাড়লেও সরকারি মজুত ও আমদানি পরিকল্পনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
Leave a Reply