তিন সন্তানের জননীকে প্রকাশ্যে অর্ধনগ্ন করে লাঠিপেটা Latest Update News of Bangladesh

মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
Latest Update Bangla News 24/7 আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] অথবা [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩




তিন সন্তানের জননীকে প্রকাশ্যে অর্ধনগ্ন করে লাঠিপেটা

তিন সন্তানের জননীকে প্রকাশ্যে অর্ধনগ্ন করে লাঠিপেটা




অনলাইন ডেস্ক: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় প্রকাশ্যে তিন সন্তানের জননীকে (৩৫) অর্ধনগ্ন করে লাঠিপেটা ও নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। ওই জননী স্থানীয় এক ওমান প্রবাসীর স্ত্রী। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।ভিডিও’র সূত্র ধরে জানা যায় সোমবার (১৩ মে) কুলাউড়ার উপজেলার বরমচাল ইউনিয়ন এ ঘটনা ঘটে। ওমান প্রবাসীর স্ত্রীকে লাঠিপেটাকারী ওই ব্যাক্তি একই ইউনিয়নের রাউৎগাঁও উজানপাড়া গ্রামের মৃত সরল খানের পুত্র মোলাইম খান।

স্থানীয় ও অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ওই প্রবাসীর স্ত্রী তিন কন্যার জননী। বড় কন্যার কিছুদিন আগে বিয়ে হয়েছে। বাড়িতে ওই নারী তার দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন। গত সোমবার দুপুরে প্রবাসীর স্ত্রী স্থানীয় ফুলেরতল বাজার থেকে মোবাইল ব্যাংকিকের ‘বিকাশ’ এজেন্ট থেকে নগদ টাকা উত্তোলন করে বাড়িতে আসেন। এ সময় ওই নারীর পিছু ধরে মোলাইম খাঁ ওই প্রবাসীর বাড়িতে যান। এ সময় প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে আনেন তিনি। পরে ওই নারীর দুই মেয়ের সামনে অর্ধনগ্ন করে প্রকাশ্যে বেধড়ক লাঠিপেটা শুরু করেন। মারধর শেষে মোলাইম খান ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

এদিকে মোলাইম খান ওই নারীকে নিজের বিবাহিত স্ত্রী দাবি করেছেন এবং স্ত্রীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে মারধর করেছেন বলে দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী বলেন, আমার শ্বশুর-শাশুড়ি মারা গেছেন। ভাশুর (স্বামীর বড় ভাই) অন্যত্র থাকেন। আমার স্বামী ওমান প্রবাসী এবং আমার তিন মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আমি আমার দুই মেয়েকে নিয়ে একা বাড়িতে থাকি।

তিনি আরও বলেন, আমার চাচা শ্বশুরের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে কোর্টে মামলা রয়েছে। মোলাইম খান আমার দূরসম্পর্কে আত্মীয়। আমি মহিলা তাই চাচা শ্বশুরের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেই তাকে। এর জন্য মাঝে মধ্যে আমার বাড়িতে আসতেন তিনি। মামলা পরিচালনার জন্য ২০১৫ সালের ২৩ মার্চ একই তারিখের কয়েকটি সাদা (লেখাবিহীন) স্ট্যাম্প কাগজে স্বাক্ষর নিতে আসেন মোলাইম।

আমি জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজে দস্তখত দিতে হবে।

আমি সরল বিশ্বাসে সেই সাদা স্ট্যাম্প কাগজে দস্তখত দেই। কিছুদিন পর মোলাইম আমার স্বামীর কাছে মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ স্বামীকে তালাকের হলফনামার এবং ‘কোর্ট ম্যারেজের’ কাগজের ছবি পাঠান। আমার স্বামী বিদেশ থেকে ওই হলফনামা কাগজের কথা আমাকে জানান। এ বিষয়টি আমি মোলাইমকে জিজ্ঞেস করি। পরে ২০১৫ সালের ২৩ মার্চ একই তারিখের দুটি স্ট্যাম্প কাগজে সে প্রতারণার মাধ্যমে আমার দস্তখত নিয়ে (রেজিনং ৭৫৭) কাগজে ‘তালাকনামা’ এবং (রেজিনং ৭৫৮) কাগজে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ হলফনামা দেখিয়ে আমাকে তার স্ত্রী দাবি করে। তখন সে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে আমাকে বিভিন্ন সময় হয়রানি করে ও আমাকে একদিন মারধরও করে।

‘পরবর্তীতে ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে কোর্ট ম্যারেজ এবং তালাকনামা বাতিলের জন্য এফিডেবিটের (রেজি নং-৪৮২৪) মাধ্যমে আদালতে আবেদন করি। এরপরও প্রায় সে আমাকে উত্যক্ত করতে থাকে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন সোমবার দুপুরের দিকে আমি ফুলতালা বাজারে যাই এবং সেখান থেকে বিকাশে ক্যাশ আউট করে বাড়িতে ফিরে আসি। মোলাইম আমার পিছু নিয়ে আমার বাড়িতে আসে এবং ঘরে ঢুকে আমার গলায় শ্বাসরোধ করে রাখে।পরে আমার শাড়ি জোরপূর্বক খুলে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এবং টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে এসে আমাকে কাঠের লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধর করতে থাকে। এ সময় আমার মেয়েরা এগিয়ে এলে তাদের উপর চড়াও হয় মোলাইম। পরে আমার আত্মীয় স্বজন এসে আমাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আমার সমস্ত শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। থানায় আমি মোলাইম খানকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই বলেন ওই নারী।

এ ব্যাপারে মোলাইম খানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- আমার দুই স্ত্রী আছে এবং ওই নারীও আমার স্ত্রী। আমি তাকে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিয়ে করেছি। আগের স্বামীর সঙ্গে তার তালাক হয়ে গেছে। ঘটনার দিন তার বাড়িতে গেলে প্রথমে সে আমার ওপরে হামলা চালায়। একপর্যায়ে আমি আত্মরক্ষার্থে তাকে মারধর করি। আপসের জন্য তার সঙ্গে বিয়ের সব কাগজপত্র স্থানীয় ফুলেরতল মসজিদ পঞ্চায়েতের (কমিটির) সাবেক সভাপতি আনারউদ্দিনসহ কমিটির সদস্যদের কাছে দেয়া আছে।

ফুলেরতল মসজিদ পঞ্চায়েতের (কমিটির) সাবেক সভাপতি আনার উদ্দিনের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ কিছু জানায়নি। আমি পরস্পরের মাধ্যমে মারধরের ঘটনাটি জানতে পেরেছি।

কুলাউড়া থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মহিলার ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন কোনভাবেই কাম্য নয়। মোলাইম খান ওই নারীকে পাশবিকভাবে লাঠিপেটা ও নির্যাতন করেছেন। ধর্ষণচেষ্টা ও মারধরের ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

Shares
© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD
Shares