বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কৌশলগত উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আটকে থাকা অপরিশোধিত তেল দেশে আনার পাশাপাশি বিকল্প রুটে নতুন আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ জাহাজে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে জটিলতার কারণে বাংলাদেশে আসতে পারছে না। জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। ইরানের বিশেষ অনুমতি ছাড়া জাহাজটির যাত্রা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে জাহাজটি দ্রুত চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার সৌদি আরব থেকে নতুন করে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগৃহীত এই তেল লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি বাংলাদেশে আসবে। ফলে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।
আগামী ২০ এপ্রিল তেল লোডিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল চট্টগ্রামে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন শেষে বাজারে সরবরাহ করা হবে।
এই তেল থেকে ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন উৎপাদন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, নতুন তেল দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সংকট অনেকাংশে কমবে। তবে ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির প্রয়োজন হতে পারে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও গত মার্চ মাসে বিকল্প উৎস থেকে অন্তত ৩৯টি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, যা সরকারের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের ধারাবাহিক উদ্যোগেরই অংশ।
Leave a Reply