রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
ঝালকাঠি সংবাদদাতা॥ ঝালকাঠির নলছিটি পৌর এলাকায় প্রবেশের দুটি ব্যস্ততম সড়কের ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে খানাখন্দের কারণে সড়ক দুটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। বরিশাল-কুয়কাটা মহাসড়ক থেকে নলছিটির প্রবেশদ্বার জিরো পয়েন্ট হয়ে দপদপিয়া ফেরিঘাট থেকে নলছিটি পৌরসভা পর্যন্ত নয় কিলোমিটার গর্তের কারণে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। অন্যদিকে ঝালকাঠি শহর থেকে নলছিটি প্রবেশের বাড়ইকরণ খেয়াঘাট হয়ে নলছিটি পৌর শহর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার পথের একই অবস্থা।
জানা যায়, নলছিটি উপজেলায় প্রবেশ সহজ করতে ২০০২ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে দপদপিয়া-মোল্লারহাট-নলছিটি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত নয় কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করে পাকাকরণ করা হয়। পরে দপদপিয়া ফেরিঘাট হয়ে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের সঙ্গে আরও তিন কিলোমিটার সড়ক যোগ হয়ে নলছিটি-বরিশাল সরাসরি বাস চলাচল শুরু হয়। অন্যদিকে একই সময় ঝালকাঠি পুরাতন কলেজ খেয়াঘাটের ওপারে বাড়ইকরণ ঘাট থেকে নলছিটি শহর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার প্রশস্ত করে পাকাকরণ করা হয়। সড়ক দুটি দিয়ে প্রতিদিন বরিশাল ও ঝালকাঠিতে বিভিন্ন কাজে প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে।
পরে সড়ক দুটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে। কিন্তু সে সময় নিম্নমানের কাজ ও পরে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার করায় পাঁচ বছরেই সড়ক দুটির পিচ-খোয়া ওঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা মালপত্র আনতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বরিশাল থেকে তাদের পণ্যসামগ্রী বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাছে বুড়িরহাট ঘুরে নলছিটিতে নিয়ে আসতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে পণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষা আসার আগে টমটমচালক ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা স্বেচ্ছাশ্রমে ইট-খোয়া দিয়ে খানাখন্দ মেরামতের চেষ্টা করেন। কিন্তু বৃষ্টি হলেই আবার গর্তের সৃষ্টি হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, চাকরি, মামলা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কাজ থাকায় উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ ঝালকাঠি জেলা সদরে যাতায়াত করছে। এ সড়কের সাত কিলোমিটারের মধ্যে পাঁচ কিলোমিটারের পিচই উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সরৈই, মাটিভাঙ্গা ও মালিপুর অংশের সড়কের অবস্থা বেহাল।অন্যদিকে দপদপিয়া-মোল্লরহাট-নলছিটি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত নয় কিলোমিটার অংশের কুমারখালী, তিমিরকাঠি, কাঠেরপুল, শংকরপাশা, সারদল ও ব্র্যাক কার্যালয়ের সামনের সড়কে খানাখন্দসহ বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙাচোরা সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। নলছিটির চাল ব্যবসায়ী শাহাদাৎ আলম বলেন, প্রতি সপ্তাহে নলছিটিতে চালবোঝাই অন্তত ২০টি ট্রাক প্রবেশ করে। দপদপিয়া সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় বাড়তি টাকা দিয়ে বিকল্প পথে মালপত্র আনতে হয়। বাসচালক মহসিন মিয়া বলেন, এ সড়কে খানাখন্দের কারণে পাশাপাশি দুটি বাস অতিক্রম করতে গেলে দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে।
নলছিটি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবদুল্লাহ হেল বাকি চৌধুরী বলেন, এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে খানাখন্দের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তবে দপদপিয়া-মোল্লারহাট সড়ক নির্মাণ কাজ শিগগির শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Leave a Reply