বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন
ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ইতিমধ্যে আক্রান্ত আরও ৪ রোগী সুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ৮০ বছর। অন্য দুজনের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। শুধু তাই নয়, তারা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগেও আক্রান্ত। সোমবার (৩০ মার্চ) করোনা ভাইরাস নিয়ে অনলাইনে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা।
করোনা সংক্রমণে বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি, বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত তারা। এমন পরিস্থিতিতে এই তিনজন বয়স্ক ব্যক্তির করোনা মুক্তির বিষয়টি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, সর্বশেষ সুস্থ হওয়া চার ব্যক্তির কারও কারও ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ছিল। এরপরও তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৫৩ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এই নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৪৯ জনের শরীরে। এদের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচজন এবং সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৯ জন।
মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, গত দুই দিন কোনো শনাক্ত না থাকায় কেউ হয়তো মনে করছেন বাংলাদেশ ঝুঁকিমুক্ত হয়ে গেছে। আমরা ঝুঁকিমুক্ত হয়ে গেছি, তা বলা যাবে না। এটা বৈশ্বিক সমস্যা। যত দিন সারা বিশ্বে শূন্যের কোটায় না আসবে, তত দিন প্রতিটি প্রতিরোধ কার্যক্রম অনুসরণ করতে হবে।
জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, আপনাদের সবার অংশগ্রহণ অনুরোধ করছি। আপনাদের ঘরের ভেতর থাকা অত্যন্ত জরুরি। সরকার যেসব আদেশ-নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলো পালন করুন। বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করে বের হোন।
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ৯৬৬ জন মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ২১ হাজার ৯৫৬ জনের শরীরে। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৩১২ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬৭৮ জন। এদের মধ্যে ৫ লাখ ৯ হাজার ৮৮৯ জনের অবস্থা স্থিতিশীল এবং ২৬ হাজার ৭৮৯ জনের অবস্থা গুরুতর।
এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৭ জনের শরীরে। সেখানে মারা গেছেন ২ হাজার ৪৮৪ জন।
আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ইতালিতে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৭ হাজার ৬৮৯ জন। সেখানে মারা গেছেন ১০ হাজার ৭৭৯ জন।
ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩৯ জন এবং মারা গেছেন ৩ হাজার ৩০০ জন।
Leave a Reply