বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ। বুধবার (১ এপ্রিল) দেওয়া এই ভাষণে তিনি জানান, ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ দীর্ঘদিন ধরে মিত্রদের নিরাপত্তা চাহিদার প্রতিফলন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষণ সেই অবস্থানকেই পুনরায় স্পষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন জ্বালানি শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে শুধুমাত্র বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় অংশ নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
৩২ দিন ধরে চলা সংঘাতে মার্কিন বাহিনী কৌশলগতভাবে সফল হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, তারা লক্ষ্য অর্জনের পথে অনেক দূর এগিয়েছে। যদিও যুদ্ধ বন্ধের সময়সীমা নির্ধারণ করেননি, তবে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ভাষণে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও আলী লারিজানির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে শাসন পরিবর্তনের ঘোষণা না দিলেও বাস্তবে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে মোজতবা খামেনি নেতৃত্বে থাকলেও তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ হারিয়েছে দেশটি।
ইসরায়েলসহ সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানালেও ওমানের নাম উল্লেখ করেননি, যদিও দেশটি যুদ্ধের নিন্দা জানিয়েছে এবং মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও ট্রাম্প একে সাময়িক সমস্যা বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে এবং ইরান পুনর্গঠনের প্রয়োজনে তেল বিক্রি শুরু করবে।
Leave a Reply