বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ টানা ৩৩ দিনে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত চলমান এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলো বিশেষ ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের প্রথম জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশ। কারণ, দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর।
এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকা ও বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ দেখা দিয়েছে। মোটরসাইকেল চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে। অনেক পাম্পে জ্বালানি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনীয় তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে নগর পরিবহন ব্যবস্থা প্রভাবিত হচ্ছে এবং সড়কে যানবাহনের চলাচল কমে এসেছে।
বিশ্ববাজারে এই সংকটের বড় কারণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা। পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার এই নৌপথ দিয়ে এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি রেশনিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। ডিজেল বিক্রিতে সীমাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় উদ্যোগ এবং প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে। যদিও ঈদুল ফিতরের সময় সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে মজুত তেল দিয়ে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ চাহিদা পূরণ সম্ভব। ডিজেলের মজুত মার্চের শুরুতে মাত্র নয় দিনের সমপরিমাণ ছিল।
নতুন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধ করা হয়েছে। সরকার সংকট অস্বীকার করলেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
Leave a Reply