শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ৫০ বছরের ‘লজ্জা’ মোচনের কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার সন্দ্বীপে ফেরি উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল সমাবেশে তিনি বলেন, এতদিন সন্দ্বীপবাসীকে কাদা মাড়িয়ে ডিঙি নৌকায় সমুদ্র পারাপার করতে হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।
সকাল ৯টায় সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া থেকে প্রথম ফেরি সন্দ্বীপের গুপ্তছড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এক ঘণ্টার যাত্রাপথ শেষে ফেরিটি দ্বীপে পৌঁছালে স্থানীয়রা তা উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাগত জানায়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শুধু সন্দ্বীপ নয়, সমগ্র চট্টগ্রামের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক দিন।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, দুটি ফেরিঘাটের নাম জুলাই আন্দোলনের শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকত ও সাইমুন হোসেন মাহিনের নামে নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, নৌঘাট দখলমুক্ত করা ও সমুদ্রপথে ফেরি চালু করা ছিল চ্যালেঞ্জিং কাজ।
সড়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, গত আগস্টে প্রধান উপদেষ্টাকে নারীদের কাদামাটি পেরিয়ে পারাপারের কষ্টের কথা জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশ দেন। সমুদ্রপথে ফেরি চালু করতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজমসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, সন্দ্বীপের এ অগ্রযাত্রা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুষম উন্নয়নের সূচনা করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফেরি চালু হওয়ায় তাদের যাতায়াতের কষ্ট অনেকাংশে কমবে। আগে ডিঙি নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করতে হতো যা এখন ইতিহাস হয়ে গেল। নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়সূচিতে ফেরি চলাচল করবে এবং ভবিষ্যতে আরও আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হবে।
Leave a Reply