বিজ্ঞপ্তি :
কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই
সংবাদ শিরোনাম:
কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই




“স্বজন হারানো জেলে পরিবারের কান্না আজও থামেনি সাগরকন্যা কুয়াকাটায়,আজ সাগর ট্রাজেডির এক যুগ”

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 10:47:59 pm, Wednesday, 19 September 2018
  • 110 সংবাদটি দেখা হয়েছে




আরিফ বিল্লাহ নাছিম,কলাপাড়া (কুয়াকাটা) প্রতিনিধি: আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ভয়াল সাগর ট্র্যাজেডির এক যুগ। সাকরকন্যা কুয়াকাটার জনপদ ও কলাপাড়াসহ উপকূলবাসীর কাছে বেদনাদায়ক স্মরণীয় আজকের এই দিনটি। বিশেষ করে জেলে পেশার মানুষের কাছে এই দিনটি সবচেয়ে শোকাবহ ভয়াল হিসেবে পরিচিত। ২০০৬ সালের এই দিনে সাগরের ভয়াল ঢেউয়ের তা-বে প্রাণ হারায় শতাধিক জেলে। এখনও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে অনেক জেলের নাম।স্বজনহারা এসব পরিবারে এই দিনটিতে চলে অনেক কষ্ট আর চোখের জল জড়িয়ে।ভয়াল ওই ঝড়ে ট্রলারডুবিতে পিতা হয়েছে সন্তানহারা, স্ত্রী স্বামীহারা আর সন্তান হারিয়েছে তাদের উপার্জনক্ষম বাবাকে। এদের প্রতিটি দিন কাটে এখনও অর্ধাহার আর অনাহারে। অনেকের স্কুলগামী সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে আর উপার্জনক্ষম মানুষটি হারিয়ে গোটা পরিবার অসহায় হয়ে গেছে। এদের খবর রাখে না কেউ। এসব পরিবারের স্ত্রী-সন্তানরা ২০০৬ সালে খাদ্য ও আবাসন সমস্যার সমাধানের দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে কলাপাড়া- কুয়াকাটা সড়কের মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ স্মারকলিপি প্রদানের মতো বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে। এদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এখানকার জেলে, মৎস্যজীবীসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ কর্ণপাত করেনি।

জেলে পরিবারে এক মাত্র উপর্জনক্ষম মানুষটি পরিণত হয়েছে মাছের খাবারে। এমন হতভাগাদের মধ্যে একজন ছিলেন সেলিম মাঝি (৪৮)। লতাচাপলী ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের স্লুইসঘাট এলাকায় বাড়ি। ২০০৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের ঝড়ে সাগরে ট্রলারডুবিতে মারা গেছেন। সরকারী হিসাবে নিখোঁজ। লাশের দেখাও পায়নি স্ত্রী সন্তানেরা। এফবি সাগর বোটের মাঝি ছিলেন সেলিম। এ পরিবারের সবার সিদ্ধান্ত ছিল আর কাউকে সাগরে পাঠাবেন না মাছ শিকারে। কিন্তু বাপরে গিলে খাওয়া সেই সাগরে আবারও জীবিকার টানে ছুটছেন ফের এক ছেলে বশির। আর্থিক অসহায়ত্ব এদের ধাওয়া করছে প্রতিনিয়ত। ভয়াল এই ট্র্যাজেডির স্মরণে জেলে পল্লীতে স্বজনেরা করছেন বিশেষ মোনাজাত।

ওই সময় তৎকালীন চারদলীয় সরকারের চরম উদাসীনতা আর দায়িত্বহীনতার কারণে হতভাগা জেলেদের যেসব লাশ ভেসে আসে তার অনেকের শেয়াল কুকুরে খেয়ে ফেলে। ওই সময়ে দৈনিক জনকণ্ঠে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলে দেশব্যাপী তোলপাড় হয়। এমনকি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করলে সে সময়কার সরকার প্রধান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জরুরী সফরে কলাপাড়ায় এসে জেলেদের ক্ষতিপূরণসহ সব সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত দুই সরকারের কেউ এসব পরিবারের সহায়তায় কিছুই করেনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান

“স্বজন হারানো জেলে পরিবারের কান্না আজও থামেনি সাগরকন্যা কুয়াকাটায়,আজ সাগর ট্রাজেডির এক যুগ”

প্রকাশের সময় : 10:47:59 pm, Wednesday, 19 September 2018

আরিফ বিল্লাহ নাছিম,কলাপাড়া (কুয়াকাটা) প্রতিনিধি: আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ভয়াল সাগর ট্র্যাজেডির এক যুগ। সাকরকন্যা কুয়াকাটার জনপদ ও কলাপাড়াসহ উপকূলবাসীর কাছে বেদনাদায়ক স্মরণীয় আজকের এই দিনটি। বিশেষ করে জেলে পেশার মানুষের কাছে এই দিনটি সবচেয়ে শোকাবহ ভয়াল হিসেবে পরিচিত। ২০০৬ সালের এই দিনে সাগরের ভয়াল ঢেউয়ের তা-বে প্রাণ হারায় শতাধিক জেলে। এখনও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে অনেক জেলের নাম।স্বজনহারা এসব পরিবারে এই দিনটিতে চলে অনেক কষ্ট আর চোখের জল জড়িয়ে।ভয়াল ওই ঝড়ে ট্রলারডুবিতে পিতা হয়েছে সন্তানহারা, স্ত্রী স্বামীহারা আর সন্তান হারিয়েছে তাদের উপার্জনক্ষম বাবাকে। এদের প্রতিটি দিন কাটে এখনও অর্ধাহার আর অনাহারে। অনেকের স্কুলগামী সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে আর উপার্জনক্ষম মানুষটি হারিয়ে গোটা পরিবার অসহায় হয়ে গেছে। এদের খবর রাখে না কেউ। এসব পরিবারের স্ত্রী-সন্তানরা ২০০৬ সালে খাদ্য ও আবাসন সমস্যার সমাধানের দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে কলাপাড়া- কুয়াকাটা সড়কের মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ স্মারকলিপি প্রদানের মতো বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে। এদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এখানকার জেলে, মৎস্যজীবীসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ কর্ণপাত করেনি।

জেলে পরিবারে এক মাত্র উপর্জনক্ষম মানুষটি পরিণত হয়েছে মাছের খাবারে। এমন হতভাগাদের মধ্যে একজন ছিলেন সেলিম মাঝি (৪৮)। লতাচাপলী ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের স্লুইসঘাট এলাকায় বাড়ি। ২০০৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের ঝড়ে সাগরে ট্রলারডুবিতে মারা গেছেন। সরকারী হিসাবে নিখোঁজ। লাশের দেখাও পায়নি স্ত্রী সন্তানেরা। এফবি সাগর বোটের মাঝি ছিলেন সেলিম। এ পরিবারের সবার সিদ্ধান্ত ছিল আর কাউকে সাগরে পাঠাবেন না মাছ শিকারে। কিন্তু বাপরে গিলে খাওয়া সেই সাগরে আবারও জীবিকার টানে ছুটছেন ফের এক ছেলে বশির। আর্থিক অসহায়ত্ব এদের ধাওয়া করছে প্রতিনিয়ত। ভয়াল এই ট্র্যাজেডির স্মরণে জেলে পল্লীতে স্বজনেরা করছেন বিশেষ মোনাজাত।

ওই সময় তৎকালীন চারদলীয় সরকারের চরম উদাসীনতা আর দায়িত্বহীনতার কারণে হতভাগা জেলেদের যেসব লাশ ভেসে আসে তার অনেকের শেয়াল কুকুরে খেয়ে ফেলে। ওই সময়ে দৈনিক জনকণ্ঠে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলে দেশব্যাপী তোলপাড় হয়। এমনকি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করলে সে সময়কার সরকার প্রধান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জরুরী সফরে কলাপাড়ায় এসে জেলেদের ক্ষতিপূরণসহ সব সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত দুই সরকারের কেউ এসব পরিবারের সহায়তায় কিছুই করেনি।