সংবাদ শিরোনাম:




স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী-দেবর আটক

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 09:52:32 pm, Monday, 12 October 2026
  • 28 সংবাদটি দেখা হয়েছে




বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি।।

বরিশালের বাবুগঞ্জে ঐশী আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী সোহেল খান (২৮) ও দেবর তানভীর খানকে (২২) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

ঐশীর মৃত্যুর ঘটনায় মাত্র ১ মাস ১০ দিন বয়সী একটি শিশু মাকে হারিয়েছে।

 

 

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঐশীকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

 

 

নিহত ঐশী আক্তার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। তার স্বামী সোহেল খান কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাদের খানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের জেরে ঘটনার চার দিন আগে সোহেল তার স্ত্রীর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাকে মারধরও করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

 

এতে ঐশীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

নিহত ঐশীর বড় বোন অভিযোগ করে বলেন , বিয়ের পর থেকেই সোহেল ও তার পরিবারের সদস্যরা ঐশীর ওপর নির্যাতন করে আসছিলেন। ১ মাস আগে সন্তান হলেও তাকে কোন চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

 

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঐশী স্বামীর বাড়িতে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সোমবার সকালে তাকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঐশীর বড় বোন আরও জানান, সোহেলের আগের একটি বিয়ে রয়েছে। সেই সংসারে তার একটি কন্যাসন্তান আছে।

 

 

বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে মনিরুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে আসার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঐশীর মৃত্যুর খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার স্বামী সোহেল খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এ ঘটনায় তার দেবর তানভীর খানকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

 

বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এঘটনায় আইনী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ঐশীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী-দেবর আটক

স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী-দেবর আটক

প্রকাশের সময় : 09:52:32 pm, Monday, 12 October 2026

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি।।

বরিশালের বাবুগঞ্জে ঐশী আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী সোহেল খান (২৮) ও দেবর তানভীর খানকে (২২) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

ঐশীর মৃত্যুর ঘটনায় মাত্র ১ মাস ১০ দিন বয়সী একটি শিশু মাকে হারিয়েছে।

 

 

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঐশীকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

 

 

নিহত ঐশী আক্তার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। তার স্বামী সোহেল খান কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাদের খানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের জেরে ঘটনার চার দিন আগে সোহেল তার স্ত্রীর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাকে মারধরও করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

 

এতে ঐশীর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

নিহত ঐশীর বড় বোন অভিযোগ করে বলেন , বিয়ের পর থেকেই সোহেল ও তার পরিবারের সদস্যরা ঐশীর ওপর নির্যাতন করে আসছিলেন। ১ মাস আগে সন্তান হলেও তাকে কোন চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

 

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঐশী স্বামীর বাড়িতে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সোমবার সকালে তাকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঐশীর বড় বোন আরও জানান, সোহেলের আগের একটি বিয়ে রয়েছে। সেই সংসারে তার একটি কন্যাসন্তান আছে।

 

 

বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে মনিরুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে আসার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঐশীর মৃত্যুর খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার স্বামী সোহেল খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এ ঘটনায় তার দেবর তানভীর খানকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

 

বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এঘটনায় আইনী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ঐশীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।