শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধান নেতাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে এই বৈঠকটি আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। বৈঠকে উভয় দেশের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি, তাদের দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল সীমান্ত হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বন্টন, এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানসহ তার উস্কানিমূলক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা শফিকুল আলম বৈঠক সম্পর্কে বলেন, “বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে।” তিনি আরও জানান, উভয় দেশের নেতারা একে অপরের উদ্বেগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এই বিষয়গুলো নিয়ে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষত, সীমান্ত হত্যা এবং তিস্তা নদী নিয়ে মুল আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের মধ্যে বিমান, পরিবহন এবং ট্রানজিট সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকের পর, উভয় দেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে, এই দুই দেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। সম্মেলনে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বৈঠক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো, যা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং উক্ত বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত আসবে।
Leave a Reply