বিজ্ঞপ্তি :
কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই
সংবাদ শিরোনাম:
কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই




মানবতা বিপন্ন দুই সন্তানের জননী হোসনেয়ারা বেগম ক্রয়কৃত সম্পত্তি ফিরে পেতে চায়

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 03:18:56 pm, Wednesday, 15 July 2020
  • 2 সংবাদটি দেখা হয়েছে




কলাপাড়া প্রতিনিধি॥ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গর্ভজাত সন্তানের নামে ক্রয়কৃত সম্পত্তির ভোগদখল বুঝে পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে দুই সন্তানের জননী হোসনেয়ারা বেগম (৩২)। শশুড়বাড়ীর লোকজনের রোষানলে পড়ে নিজের জমি থাকতেও অবুঝ সন্তান নিয়ে অতভাগা হোসনেয়ারা বেগমকে অন্যের বাড়িতে আশ্রিতা থাকতে হচ্ছে। ঘটনাটি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের চড় বালিয়াতলী গ্রামের মোস্তফা খন্দকারের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমের সাথে ঘটেছে। তিনি তার সম্পত্তি সঠিকভাবে বুঝে পেতে চান।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বালিয়াতলী ইউনিয়নের ছোট বালিয়াতলী গ্রামের ফজলে খন্দকারের পুত্র মোস্তফা খন্দকারের সাথে চৌদ্দ-পনের বছর আগে হোসনেয়ারা বেগমের বিয়ে হয়। সংসার জীবনে দুই সন্তানের জননীও হন তিনি। হোসনেয়ারা বেগম তার নানা বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করে ফুফু শাশুড়ির পাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি হতে ১০ শতাংশ সম্পত্তি দুই সন্তানের নামে ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা সেখানে বসবাসও করছিলেন।

 

হঠাৎ এক অমাবশ্যার অন্ধকার আসে হোসনেয়ারা বেগমের জীবনে। স্বামী মোস্তফা খন্দকার আরেকটি বিবাহ করে লাপাত্তা হয়ে যায়। এতে হোসনেয়ারা বেগম স্বামীর নামে আদালতে একটি মামলা করেন। অনেক খুঁজা-খুজি করে সন্ধান পাওয়া গেলেও প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ব্যতিত দ্বিতীয় বিবাহ করায় তার সাজা হয়। এতে হোসনেয়ারা বেগম শশুড়বাড়ির লোকদের চড়ম রোষানলে পড়েন। তারা তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করতে থাকে।

 

হোসনেয়ারা বেগমের মতে, সন্তানদের নামে ক্রয়কৃত সম্পত্তি হতে আমাকে বিতারিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পায়তারা চালাচ্ছে। আমি নিরুপায় হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট নালিশ করি। তিনি শালিস করে আমাকে সম্পত্তি ভোগদখলের অধিকার দিতে বললেও আমার শশুড়বাড়ীর লোকজন তা মানতে নারাজ হয়। সর্বশেষ গত রবিবার আমি জমিতে ঘড় তুলতে গেলে আমার শশুড় ফজলে খন্দকার, দেবর সোহেল ও নিজাম আমাকে বাঁধা দেয়। তারা ঘড়ের খুঁটিসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি উপড়ে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয়। তিনি আরোও অভিযোগ করে বলেন, আমার শশুর ও দেবররা মিলে আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে আমাকে থাকতে দিচ্ছে না। আমি আমার সম্পত্তির সঠিক বুঝ চাই যাতে আমার সন্তানদের নিয়ে থাকতে পারি। পরে কলাপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) হস্তক্ষেপে আগামী শুক্রবার হোসনেয়ারা বেগমের জমি বুঝিয়ে দিবে বলে তার শশুড়বাড়ির লোকজন স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানা যায়।

 

এবিষয়ে হোসনেয়ারা বেগমের শশুড় ফজলে খন্দকার তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, হোসনেয়ারা বেগমের সম্পত্তিতে আমরা কেহ বাধা দেইনি, সব মিথ্যা ও বানোয়াট।

 

বালিয়াতলী ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি শালিস করেছিলাম। অসহায় হোসনেয়ারা ও তার সন্তানদের সম্পত্তির বুঝ দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু হোসনেয়ারা বেগমের শশুড়বাড়ীর লোকজন আমার কথা না শুনে তার উপর অন্যায় করছে।

 

এবিষয়ে কলাপাড়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শশুড় ও পুত্রবধুর মধ্যে জমি-জমা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম। আগামী শুক্রবার স্থানীয় মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার পরামর্শ দিয়েছি। অন্যথায় আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান

মানবতা বিপন্ন দুই সন্তানের জননী হোসনেয়ারা বেগম ক্রয়কৃত সম্পত্তি ফিরে পেতে চায়

প্রকাশের সময় : 03:18:56 pm, Wednesday, 15 July 2020

কলাপাড়া প্রতিনিধি॥ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গর্ভজাত সন্তানের নামে ক্রয়কৃত সম্পত্তির ভোগদখল বুঝে পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে দুই সন্তানের জননী হোসনেয়ারা বেগম (৩২)। শশুড়বাড়ীর লোকজনের রোষানলে পড়ে নিজের জমি থাকতেও অবুঝ সন্তান নিয়ে অতভাগা হোসনেয়ারা বেগমকে অন্যের বাড়িতে আশ্রিতা থাকতে হচ্ছে। ঘটনাটি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের চড় বালিয়াতলী গ্রামের মোস্তফা খন্দকারের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমের সাথে ঘটেছে। তিনি তার সম্পত্তি সঠিকভাবে বুঝে পেতে চান।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বালিয়াতলী ইউনিয়নের ছোট বালিয়াতলী গ্রামের ফজলে খন্দকারের পুত্র মোস্তফা খন্দকারের সাথে চৌদ্দ-পনের বছর আগে হোসনেয়ারা বেগমের বিয়ে হয়। সংসার জীবনে দুই সন্তানের জননীও হন তিনি। হোসনেয়ারা বেগম তার নানা বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করে ফুফু শাশুড়ির পাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি হতে ১০ শতাংশ সম্পত্তি দুই সন্তানের নামে ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা সেখানে বসবাসও করছিলেন।

 

হঠাৎ এক অমাবশ্যার অন্ধকার আসে হোসনেয়ারা বেগমের জীবনে। স্বামী মোস্তফা খন্দকার আরেকটি বিবাহ করে লাপাত্তা হয়ে যায়। এতে হোসনেয়ারা বেগম স্বামীর নামে আদালতে একটি মামলা করেন। অনেক খুঁজা-খুজি করে সন্ধান পাওয়া গেলেও প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ব্যতিত দ্বিতীয় বিবাহ করায় তার সাজা হয়। এতে হোসনেয়ারা বেগম শশুড়বাড়ির লোকদের চড়ম রোষানলে পড়েন। তারা তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করতে থাকে।

 

হোসনেয়ারা বেগমের মতে, সন্তানদের নামে ক্রয়কৃত সম্পত্তি হতে আমাকে বিতারিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পায়তারা চালাচ্ছে। আমি নিরুপায় হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট নালিশ করি। তিনি শালিস করে আমাকে সম্পত্তি ভোগদখলের অধিকার দিতে বললেও আমার শশুড়বাড়ীর লোকজন তা মানতে নারাজ হয়। সর্বশেষ গত রবিবার আমি জমিতে ঘড় তুলতে গেলে আমার শশুড় ফজলে খন্দকার, দেবর সোহেল ও নিজাম আমাকে বাঁধা দেয়। তারা ঘড়ের খুঁটিসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি উপড়ে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয়। তিনি আরোও অভিযোগ করে বলেন, আমার শশুর ও দেবররা মিলে আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে আমাকে থাকতে দিচ্ছে না। আমি আমার সম্পত্তির সঠিক বুঝ চাই যাতে আমার সন্তানদের নিয়ে থাকতে পারি। পরে কলাপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) হস্তক্ষেপে আগামী শুক্রবার হোসনেয়ারা বেগমের জমি বুঝিয়ে দিবে বলে তার শশুড়বাড়ির লোকজন স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানা যায়।

 

এবিষয়ে হোসনেয়ারা বেগমের শশুড় ফজলে খন্দকার তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, হোসনেয়ারা বেগমের সম্পত্তিতে আমরা কেহ বাধা দেইনি, সব মিথ্যা ও বানোয়াট।

 

বালিয়াতলী ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি শালিস করেছিলাম। অসহায় হোসনেয়ারা ও তার সন্তানদের সম্পত্তির বুঝ দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু হোসনেয়ারা বেগমের শশুড়বাড়ীর লোকজন আমার কথা না শুনে তার উপর অন্যায় করছে।

 

এবিষয়ে কলাপাড়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শশুড় ও পুত্রবধুর মধ্যে জমি-জমা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম। আগামী শুক্রবার স্থানীয় মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার পরামর্শ দিয়েছি। অন্যথায় আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছি।