বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। মোদি তার চিঠিতে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন এবং এটি দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছে। মোদি আরও বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দুই দেশের সম্পর্কের সুদৃঢ় পথ তৈরি করেছে এবং এই সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণ উপকৃত হয়েছে।
মোদি তার চিঠিতে বলেন, “আমরা এই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। শান্তি, সৌহার্দ্য এবং উন্নয়নই আমাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। আমরা দুই দেশের জনগণের অনুভূতি এবং স্বার্থকে অক্ষুণ্ণ রেখে এই সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।” তিনি বাংলাদেশের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বও তুলে ধরেছেন এবং শান্তি, সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার ভিত্তিতে আগামীতে দুই দেশের সম্পর্কের আরও উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, ভারতের রাষ্ট্রপতি ধ্রুপদী মুর্মুও বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, পরিবহণ এবং বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী প্রথম দেশ এবং ভারতের পূর্ব লক্ষ্য নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল এবং শান্তিপূর্ণ উন্নয়নে ভারত সবসময় পাশে থাকবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কেও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি বলেন, ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর চিঠির মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে এটি আরও দৃঢ় হবে।
এদিন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও উৎসবের আবহ লক্ষ্য করা গেছে। হিলি সীমান্তে বিজিবি এবং বিএসএফ একে অপরকে মিষ্টি বিতরণ এবং ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে। এই অনুষ্ঠান সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কের একটি শান্তিপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে।
Leave a Reply