বরিশালে নিহত রেজার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি: ডা. আতিক আহম্মেদ Latest Update News of Bangladesh

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
Latest Update Bangla News 24/7 আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- inbox.voiceofbarishal@gmail.com অথবা hmhalelbsl@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩
সংবাদ শিরোনাম:
ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অবরোধ বহাল রাখলেন ট্রাম্প




বরিশালে নিহত রেজার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি: ডা. আতিক আহম্মেদ

বরিশালে নিহত রেজার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি: ডা. আতিক আহম্মেদ

বরিশালে নিহত রেজার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি: ডা. আতিক আহম্মেদ




ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে পুলিশ হেফাজতে মৃত শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজাউল করিম রেজার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. আতিক আহম্মেদ আকন্দ।

 

 

তিনি বলেন, ধারণা করছি রেজার শরীরের একই জায়গায় বারবার নেশার ইনজেকশন পুশ করায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ কারণেই রেজার মৃত্যু হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেন ডা. আতিক আহম্মেদ আকন্দ।

 

 

ডা. আতিক আহম্মেদ আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, ‘১ জানুয়ারি রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে কারাগার থেকে রেজাকে এনে প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়। তখন সার্জারি-১ ইউনিটের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। রোগী রক্তশূন্যতা নিয়ে এখানে ভর্তি হন। তার বাম পায়ের সংযোগ স্থলে ক্ষতচিহ্ন ছিল। ওই ক্ষত থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু তার হাত-পায়ের শিরাগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ক্যানোলা পরানো যাচ্ছিল না।

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘এই কারণেই রোগীকে আমার কাছে নিয়ে আসে। তখন আমি রোগীর বাহুর নিচে ডান বুকের ওপরের শিরার সঙ্গে ক্যানোলা লাগিয়ে রক্ত ও স্যালাইন সঞ্চালনের ব্যবস্থা করি।

 

 

রেজার পরিবারের অভিযোগ, তাকে পুলিশি নির্যাতনেই রেজার মৃত্যু হয়েছে।’ পরিবারে এমন অভিযোগ বিষয়ে ডা. আতিক আহম্মেদ বলেন, ‘রোগীর পুরো শরীর দেখা হয়েছে। কোথাও স্পষ্টভাবে মারধরের কিংবা দুর্ঘটনার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এমনকী রোগীর কাছে জানতে চেয়েও এই ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ৪ দিন আগে কোনো মানুষকে চর-থাপ্পড় দিলেও সেই আঘাতের চিহ্ন থাকে না। বড় কোনো আঘাত হলে তার চিহ্ন ধরা পড়ে। সে ক্ষেত্রেও রেজার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে রেজার মাথায় কোনো আঘাত করা হয়েছিল কি না, ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে।

 

 

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. আতিক বলেন, ‘রেজা সুঁইয়ের মাধ্যমে নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করতেন বলে চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন। এই কারণে তার হাত-পায়ে শিরাগুলোতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক ছিল না। বেশিরভাগ সময়ই তিনি বাম পায়ের সংযোগস্থল দিয়ে নেশার ইনজেশন নিতেন। এই কারণে সেখানে ক্ষত তৈরি হয়েছে। ওই ক্ষত দিয়েই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মূলত একই জায়গায় বারবার ইনজেকশন নেওয়ায় ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত সার্জারির মাধ্যমে এসব ক্ষত নিরাময় সম্ভব। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে সার্জারির আগেই রেজা মারা যান।

 

 

২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাত ৮টায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজাউল করিম রেজাকে বরিশাল নগরীর সাগরদী হামিদ খান সড়ক থেকে ধরে নিয়ে যান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদদ্দিন। তার দাবি, রেজার কাছে ১৩৮ গ্রাম গাঁজা ও ৪ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ৩০ ডিসেম্বর কোতয়ালি মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। এরপর ওই দিন তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয।

 

 

রেজা অসুস্থ থাকায় আদালতের নির্দেশে কারা কর্তৃপক্ষ কারা-হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। সেখানে ১ জানুয়ারি রেজাউলের অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে তাকে কারা হাসপাতাল থেকে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ২ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

 

এই ঘটনায় পুলিশি নির্যাতনে রেজার মৃত্যুর অভিযোগ এনে ৫ জানুয়ারি রেজার বাবা মো. ইউনুস মুন্সী বাদী হয়ে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা আমলে নিয়ে আগামী ২৩ ফেরুয়ারির মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর একজন পরিদর্শক পদ-মর্যদার কর্মকর্তাকে দিয়ে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

 

 

এদিকে, উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিনকে গোয়েন্দা বিভাগ থেকে প্রত্যাহার করে মেট্রোপুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD