বিজ্ঞপ্তি :
কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই
সংবাদ শিরোনাম:
কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই




কাউখালীতে স্কুলের টেবিলে পা রেখে শিক্ষকদের উপর জমিদাতার খবরদারি !

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 08:48:10 pm, Thursday, 5 September 2019
  • 2 সংবাদটি দেখা হয়েছে




কাউখালী প্রতিনিধি॥  পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৪৭নং মধ্য শিয়ালকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা মোহাম্মদ ইউনুস মোল্লার অত্যাচারে শিক্ষকরা অতিষ্ঠ। তিনি গত কয়েকদিন ধরে স্কুলের শিক্ষকদের উপর নানা ধরনের অযাচিত খবরদারি করে আসছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার পরে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মোহাম্মদ ইউনুস মোল্লা স্কুলে আসেন। স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে টেবিলের উপর পা তুলে শিক্ষকদের নানা রকম আদেশ নির্দেশ করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিক্ষকদের সাথে বাক-বিতন্ডা হলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) সাবিনা ইয়াসমিনকে জুতা নিয়ে মারতে ওঠেন। অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ এ ঘটনায় অবাক হয়ে যান।

সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জমিদাতা ইউনুস মোল্লা বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে এসে তার কাছে স্কুলের স্টিল আলমিরার চাবি চান।

তিনি চাবি দিতে অস্বীকার করায় তার বিরুদ্ধে ক্ষেপে গিয়ে তাকে নানা রকম অশ্লীল মন্তব্য করেন এবং একপর্যায়ে জুতা খুলে শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের সামনেই তাকে মারতে উদ্যত হন। ইউনুস মোল্লার উচ্চস্বরে হুমকি-ধামকির এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের এ অপমানের বিচার চেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।

বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজা আক্তার এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এ ঘটনার বিচার দাবি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছন।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের জমি দাতা সদস্য মোঃ ইউনুস মোল্লা বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। তিনি কয়েকদিন আগে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসে গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি বিদ্যালয় আসেন। বিদ্যালয়ে এসেই তিনি শিক্ষক হাজিরা খাতা নিয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য লেখেন। এরপর শিক্ষকদের নানাভাবে ধমকাতে থাকেন।

তিনি বলেন, আমি স্কুলের জমিদাতা সদস্য। এই স্কুল আমার, আমার বাপ দাদার। আমি যেভাবে যা বলব শিক্ষকদেরকে তা শুনতে হবে। এই বলে শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের আদেশ নির্দেশ করতে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, যে কয়দিন তিনি বাড়িতে থাকবেন সে কয়দিন প্রতিদিনই তিনি স্কুলে আসবেন এবং তার কথামতো শিক্ষকদের চলতে হবে।সেই থেকে তিনি প্রতিদিনই দু’তিনবার করে স্কুলে আসেন। গত ৩ সেপ্টেম্বরও তিনি স্কুলে এসে একইভাবে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে জুতাসহ দুই পা টেবিলের উপর তুলে বসেছিলেন।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল হাকিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ছাড়া শিক্ষক হাজিরা খাতায় অন্য কেউ মন্তব্য লেখার অধিকার রাখেন না। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তাহার কাছে কেউ কোনও অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়েটি তদন্ত করে দেখা হবে।উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু বলেন, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান

কাউখালীতে স্কুলের টেবিলে পা রেখে শিক্ষকদের উপর জমিদাতার খবরদারি !

প্রকাশের সময় : 08:48:10 pm, Thursday, 5 September 2019

কাউখালী প্রতিনিধি॥  পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৪৭নং মধ্য শিয়ালকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা মোহাম্মদ ইউনুস মোল্লার অত্যাচারে শিক্ষকরা অতিষ্ঠ। তিনি গত কয়েকদিন ধরে স্কুলের শিক্ষকদের উপর নানা ধরনের অযাচিত খবরদারি করে আসছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার পরে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মোহাম্মদ ইউনুস মোল্লা স্কুলে আসেন। স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে টেবিলের উপর পা তুলে শিক্ষকদের নানা রকম আদেশ নির্দেশ করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিক্ষকদের সাথে বাক-বিতন্ডা হলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) সাবিনা ইয়াসমিনকে জুতা নিয়ে মারতে ওঠেন। অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ এ ঘটনায় অবাক হয়ে যান।

সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জমিদাতা ইউনুস মোল্লা বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে এসে তার কাছে স্কুলের স্টিল আলমিরার চাবি চান।

তিনি চাবি দিতে অস্বীকার করায় তার বিরুদ্ধে ক্ষেপে গিয়ে তাকে নানা রকম অশ্লীল মন্তব্য করেন এবং একপর্যায়ে জুতা খুলে শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের সামনেই তাকে মারতে উদ্যত হন। ইউনুস মোল্লার উচ্চস্বরে হুমকি-ধামকির এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের এ অপমানের বিচার চেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।

বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজা আক্তার এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এ ঘটনার বিচার দাবি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছন।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের জমি দাতা সদস্য মোঃ ইউনুস মোল্লা বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। তিনি কয়েকদিন আগে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসে গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি বিদ্যালয় আসেন। বিদ্যালয়ে এসেই তিনি শিক্ষক হাজিরা খাতা নিয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য লেখেন। এরপর শিক্ষকদের নানাভাবে ধমকাতে থাকেন।

তিনি বলেন, আমি স্কুলের জমিদাতা সদস্য। এই স্কুল আমার, আমার বাপ দাদার। আমি যেভাবে যা বলব শিক্ষকদেরকে তা শুনতে হবে। এই বলে শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের আদেশ নির্দেশ করতে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, যে কয়দিন তিনি বাড়িতে থাকবেন সে কয়দিন প্রতিদিনই তিনি স্কুলে আসবেন এবং তার কথামতো শিক্ষকদের চলতে হবে।সেই থেকে তিনি প্রতিদিনই দু’তিনবার করে স্কুলে আসেন। গত ৩ সেপ্টেম্বরও তিনি স্কুলে এসে একইভাবে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে জুতাসহ দুই পা টেবিলের উপর তুলে বসেছিলেন।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল হাকিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ছাড়া শিক্ষক হাজিরা খাতায় অন্য কেউ মন্তব্য লেখার অধিকার রাখেন না। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তাহার কাছে কেউ কোনও অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়েটি তদন্ত করে দেখা হবে।উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু বলেন, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।