মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০১:২৫ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক স্নায়ুযুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছেন, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষক জোনাথন কুক। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরিকল্পিতভাবেই ট্রাম্পকে ইরান যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু লেবাননে পরিচালিত সামরিক অভিযানের উদাহরণ দিয়ে ট্রাম্পকে বোঝান যে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান দ্রুত সফল হতে পারে। তবে বিশ্লেষকের মতে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। গাজায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালিয়েও ইসরায়েল হামাসকে পরাজিত করতে পারেনি, যা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ঝুঁকি স্পষ্ট করে।
কুক বলেন, ইরান ভৌগোলিকভাবে গাজার তুলনায় প্রায় ৪,৫০০ গুণ বড় এবং তাদের সামরিক শক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার অনেক বেশি শক্তিশালী। গাজার সমতল টানেল ব্যবস্থার বিপরীতে ইরানের পাহাড়ি এলাকা, গ্রানাইট পাথরের গিরিখাত ও ভূগর্ভস্থ সামরিক অবকাঠামো যুদ্ধকে আরও কঠিন করে তুলবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনে জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিশ্লেষকের মতে, ইসরায়েল ইরানকে একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা হুমকি কমে। বিপরীতে ট্রাম্প বিশ্ববাজার স্থিতিশীল রাখতে আগ্রহী হলেও অতীতে পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার কারণে তেহরানের আস্থা হারিয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্প যদি খাগ দ্বীপ দখলের মতো পরিকল্পনায় এগিয়ে যান, তবে ইরানের পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে। এই ‘চিকেন গেম’ বা স্নায়ুযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই কৌশলগতভাবে বিপাকে পড়তে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
Leave a Reply