মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও দাবি করেছেন, ইরানের নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্প কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং সামরিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের আর কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন।
সোমবার এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করছে এবং তাদের সামরিক শিল্পভিত্তি ভেঙে দিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে নতুন অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা হারায় তেহরান। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো প্রচেষ্টা মেনে নেবেন না। ইরান যদি জলপথে টোল আদায় বা স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের জবাবে বলেন, দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি। যদিও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা সীমিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে ইসলামাবাদে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের চারপক্ষীয় বৈঠকে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সমাধান না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলকূপ ও খার্গ দ্বীপে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ঘিরে সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
Leave a Reply