বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিক সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না এবং ধর্মকে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের পক্ষেও নয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম যার যার হলেও নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় অধিকার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি ধর্ম মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা মহামতি গৌতম বুদ্ধের পঞ্চশীল নীতি মানুষের নৈতিক জীবন গঠনের দিকনির্দেশনা দেয়। প্রাণী হত্যা, চুরি, ব্যাভিচার, মিথ্যা ও মাদক থেকে বিরত থাকা—এই নীতিগুলো সমাজে শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ম বা বিশ্বাস কোনো বিভাজন তৈরি করেনি; বরং সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে যুদ্ধ করেছে। তাই স্বাধীন রাষ্ট্রের মালিকানা সবার।
তিনি বলেন, সরকারের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়, জাতিগোষ্ঠী ও নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। নাগরিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি হচ্ছে বাংলাদেশি পরিচয়—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সবাইকে নিজেদের সংখ্যালঘু ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পবিত্র বুদ্ধমূর্তির প্রতিকৃতি তুলে দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং শিক্ষাবিদ **ড. সুকোমল বড়ুয়া**সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply