মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কুনার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পরিচালিত হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ৭৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন অধ্যাপক ও অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে তালেবান প্রশাসন জানিয়েছে।
আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শক্তিশালী বিস্ফোরণে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে পুরো আসাদাবাদ শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ প্রাণভয়ে রাস্তায় ছুটতে থাকে। মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক মাতিউল্লাহ শাহাব জানান, দুপুর দুইটার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বোমাবর্ষণের শব্দ শুনেছেন।
তালেবান সরকার দাবি করেছে, হামলায় মর্টার ও রকেট ব্যবহার করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হামলার কথাও উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বেসামরিক এলাকায় হামলা চালায়নি এবং বিষয়টি ভুয়া প্রচারণা।
চীনের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও এই হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা হুমকির মুখে পড়েছে। উরুমকিতে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর দুই পক্ষ উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছিল।
তালেবানের মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত হামলাকে ‘চরম নৃশংসতা ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন। এর আগে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি হামলায় ২৬৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সংকটময় করে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানি তালেবানদের আফগানিস্তানে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ এখন সীমান্ত সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
সূত্র: বিবিসি
Leave a Reply