বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ মহান বিজয় দিবস আজ। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ আবারও নিজেকে নতুন করে মূল্যায়নের মুখোমুখি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া এই রাষ্ট্র আজ নানা অর্জনের পাশাপাশি নানা সংকট ও প্রশ্নের সম্মুখীন—এমনটাই মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, একাত্তরের যুদ্ধজয়ী জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি রক্ষা করতে পারেনি। এর ফলে মানুষের মধ্যে হতাশা জন্মেছে এবং সেই সুযোগে পরিত্যক্ত পাকিস্তানি ভাবধারার অবশেষ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তাঁর মতে, জাতীয়তাবাদের প্রকৃত পরীক্ষাটি এখনো শেষ হয়নি।
অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ১৯৭১ ছিল এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শ্রেণি, জাতি, ধর্ম ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা থেকে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই চেতনাই আজও মানুষের প্রতিরোধের শক্তি। তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদ, ধর্মবাদ এবং দেশীয় লুটেরা ধনিক শ্রেণির সৃষ্ট মতাদর্শিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান গ্রহণ ছাড়া প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তি ও জনগণের ক্ষমতার বোধ বিকাশ অপরিহার্য।
তবে এসব সংকট ও বিতর্কের মধ্যেও বিজয় দিবস জাতির জন্য এক অবিস্মরণীয় গৌরবের দিন। দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভোরেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি, জাসদ, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ছায়ানট ও উদীচীর আয়োজনে গান, শোভাযাত্রা ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে।
Leave a Reply