শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ রপ্তানি আয় কমা ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির দ্বৈত চাপে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ভারসাম্য নতুন সংকেত দিচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেই বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত দীর্ঘমেয়াদি চাপে প্রবেশ করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারে। আগের বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১৩ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাব বলছে, জুলাই থেকে মার্চ সময়ে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৮ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম। মার্চ মাসে বড় ধস নেমে রপ্তানি কমে দাঁড়ায় ৩৪৮ কোটি ডলারে।
তৈরি পোশাক, চামড়া শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল এবং পাট খাতের দুর্বলতা রপ্তানি কমার বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারকরাও একই সমস্যায় পড়েছেন।
অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, উচ্চ সুদহার ব্যবসা ও বাণিজ্য কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে। জ্বালানি সংকট দীর্ঘ হলে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তবে প্রবাসী আয় অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছে। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার।
ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, জ্বালানি আমদানিতে বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে বড় বাজেট গ্রহণ করলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
ফেব্রুয়ারি শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর্থিক হিসাবেও উন্নতি হয়েছে; উদ্বৃত্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার। ট্রেড ক্রেডিট বৃদ্ধি এবং রপ্তানির বকেয়া অর্থ দেশে ফেরত আসাই এর প্রধান কারণ।
বর্তমানে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার থাকলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, রপ্তানি বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং জ্বালানি নির্ভরতা কমানো না গেলে ভবিষ্যতে অর্থনীতি বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
Leave a Reply