মিলন হলো, সংসারে নয় শ্মশানে Latest Update News of Bangladesh

সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
Latest Update Bangla News 24/7 আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] অথবা [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩




মিলন হলো, সংসারে নয় শ্মশানে

মিলন হলো, সংসারে নয় শ্মশানে

মিলন হলো, সংসারে নয় শ্মশানে




ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ দুজনে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে না পারলেও একই শ্মশানে শবযাত্রার সাথি হলেন। তাঁরা হলেন রাউজানে প্রেমিকের হাতে খুন হওয়া প্রেমিকা ও আত্মহননকারী খুনি প্রেমিক। তবে এ ঘটনায় সোমবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে মামলা হয়নি।

 

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রসূন মুৎসুদ্দী ও মহিলা ইউপি সদস্য অর্পিতা মুৎসুদ্দী বলেন, আজ (২৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার) বিকেলে প্রেমিকা কলেজছাত্রী অন্বেষা চৌধুরী আশামনি ও চা দোকানদার জয় মুৎসুদ্দীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে সন্ধ্যায় মহামুনি গ্রামের সর্বজনীন শ্মশান ‘মহামুনি মহাশ্মশানে’ দাহকাজ সম্পন্ন হয়।

 

 

একই শ্মশানে প্রথমে জয় মুৎসুদ্দীর, পরে প্রেমিকা আশামনির দাহ সম্পন্ন করা হয়। এর আগে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল ৩টার দিকে প্রায় একই সঙ্গে আলাদা দুটি গাড়িতে ওই দুজনের মরদেহ আনা হয় তাঁদের গ্রাম মহামুনির নিজ নিজ বাড়িতে। সেখানে জয় আর আশামনিকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীরা, চলে স্বজনদের আহাজারি।

 

 

সন্ধ্যায় রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘জয় আর আশামনির মৃত্যুর ঘটনায় দুই পরিবারের কেউ কোনো এজাহার দেয়নি। মামলা দিলে আমরা নিতে প্রস্তুত আছি। ‘ তিনি আরো বলেন, ‘রবিবার গভীর রাতে লাশ দুটি উদ্ধার করে সোমবার মর্গে পাঠানো হয়েছিল ময়নাতদন্তের জন্য। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আমি সহযোগীদের নিয়ে ওই বাড়িতে ছিলাম আজ দুপুর ২টা পর্যন্ত। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ‘

 

 

নিহত জয়ের বন্ধু অর্ক মুৎসুদ্দী জুয়েল বলেন, ‘আশামনি আর জয় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে প্রেমে জড়ায়। ‘ তবে প্রেমের কথা অস্বীকার করে আশামনির বাবা রণজিৎ চৌধুরী বাবলু বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ফ্রান্সপ্রবাসীর সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। ৭ মার্চ আশীর্বাদ, ৯ মার্চ গায়েহলুদ আর ১০ মার্চ বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। এ জন্য বিয়ের বাজারও করেছে আশামনি। সে হাসিখুশি ছিল। ‘

 

 

জয়ের সৎমা রূপা বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকার কারণে জয় দুই বছর ধরে পার্শ্ববর্তী সুব্রত বড়ুয়ার খালি বাড়িতে থাকত। তবে জয় এলাকায় তার বাবার সাথে চায়ের দোকান করত। ‘

 

 

তিন বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন আশামনি। অন্যদিকে এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন জয়।

 

 

প্রসঙ্গত, ২৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার রাতে মহামুনি গ্রামের সুব্রত মুৎসুদ্দীর খালি বাড়ি থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উদয়ন চৌধুরীর বাড়ির রণজিৎ চৌধুরী বাবলুর কলেজপড়ুয়া মেয়ে অন্বেষা চৌধুরী আশামনি (১৯) এবং একই গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিলেন্দু বড়ুয়া নিলুর ছেলে চা দোকানদার জয় মুৎসুদ্দীর (২৬) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

থানার পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিনসহ স্থানীয়রা জানান, বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে প্রেমিকা আশামনিকে ছুরি দিয়ে এবং ফাঁস লাগিয়ে খুন করার পর প্রেমিক জয় মুৎসুদ্দী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।

 

 

স্থানীয়রা জানায়, প্রেমিক জয় এলাকায় একটি চায়ের দোকান করতেন। ১ মার্চ থেকে তাঁর একটি চাকরিতে যোগদানের কথা ছিল। আর প্রেমিকা আশামনি নোয়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

Shares
© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD
Shares