ভোলায় মুক্তিপণ ছাড়া অপহরণের ২৬ দিন পর মায়ের কোলে আমজাদ Latest Update News of Bangladesh

বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০২:২৪ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
Latest Update Bangla News 24/7 আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] অথবা [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩




ভোলায় মুক্তিপণ ছাড়া অপহরণের ২৬ দিন পর মায়ের কোলে আমজাদ

ভোলায় মুক্তিপণ ছাড়া অপহরণের ২৬ দিন পর মায়ের কোলে আমজাদ




ভোলা প্রতিনিধি:  দাবীকৃত মুক্তিপণ ছাড়াই ২৬ দিন পর সোমবার সকালে মায়ের কোলে ফিরে এসেছে আমজাদ। সোমবার সকালে জীর্ণ-শীর্ণ শরীরে বাড়ি এসে পৌছলে আনন্দ-অশ্রুতে বরণ করে করে তার মা ফয়জুননেছা, স্ত্রী লুবনা, ৩ বছরের শিশু সন্তান ও তার অন্যান্য স্বজনরা। চলতি মে মাসের ২ তারিখে ঢাকার ফুলবাড়িয়া মার্কেটে তৈরী পোষাক কিনতে গেলে ফুলবাড়িয়া ওভার ব্রিজের কাছ থেকে আমজাদকে অপহরণ করা করা।

পরে অপহরণকারীরা আমজাদের স্বজনদের কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আমজাদ বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ছয় নাম্বার ওয়ার্ডের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। চার ভাই চার বোনের মধ্যে আমজাদ সবার ছোট। সে তার বাড়ির কাছে উদয়পুর-নবাব মিয়ার হাট সড়কে তৈরী পোষাকের ক্ষুদ্র ব্যবসা করে।

সোমবার দুপুরে আমজাদের বাড়িতে গেলে তিনি জানান, এ মাসের ১ তারিখে তার প্রতিবেশী জুয়েল সহ দোকানের মাল কিনতে ৬১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে ঢাকার লে ওঠেন। সদরঘাটে নেমে জুয়েল চাকুরীর ইন্টারভিউ দিতে চলে যায়। সে ফুলবাড়িয়া মার্কেটের একটি পাইকারী দোকান থেকে প্রথমে ১২ পিচ স্যান্ডো গেঞ্জি কিনে।

দোকান থেকে বেড়ানোর পর এক লোক সামনে এসে জিজ্ঞেস করে আপনার বাড়ি কোথায়। ভোলা বলার পর ওই লোকও তার বাড়ি ভোলা দাবি করে গেঞ্জি কেনার ম্যামো দেখতে চায়। ম্যামো দেখে ওই লোক থ্রী-পিচ সহ অন্যন্য মালামাল কি দরে কিনে জানতে চায়। আমজাদ দর বলে। ওই লোক বলে এরা সব মালের দাম বেশী রাখে।

সে আরও বলে পাশের আরেক মার্কেটে দাম অনেক কম। সে নিজেও পাশের মার্কেট থেকে মাল কিনবে বলে আমজাদকে তার সাথে আসার প্রস্তাব দেয়। ফুলবাড়িয়া ওভারব্রীজের নীচে তারা একটি রিক্সায় ওঠে। হঠাৎ ওই লোক তার মুখে একটি রুমাল ধরলে আমজাদ অচেতন হয়ে যায়। ওই দিন বিকাল সাড়ে ৫ টার সময় সে নিজেকে একটি বন্ধ ঘরে আবিস্কার করে। তার পাশে দেখে পাঞ্জাবী-টুপি পড়া একজন হুজুর।

ওই সময় তার প্রচুর বমির বেগ হয়। বাথরুমে বমি করে আবার ফ্লোরে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম ভাঙ্গলে আর হুজুকে দেখা যায়নি। ওই লোক তিন দিন ধরে তার মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টের পিন কোড ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার বলার জন্য নির্যাতন করে।

তিনদিন পর ওই লোকের স্থানে আরেক লোক আসে। আমজাদ আরো জানায়, তাকে দিনে দু’বেলা অল্প ভাত অথবা রুিট দিতো। সাথে ভাজি অথবা ডাল। মোবাইল ফোনে ওদের কথা-বার্তা শুনে বুঝা গেছে স্থানটি টঙ্গি এলাকার মন্নুনগরের সাত তলা কোন ভবন। তাদের একজন বস আছে। সে বর্তমানে ভারতে।

১৯ দিনের মাথায় তাকে ৩ লাখ টাকা দিতে বলতে তার স্থী লুবনা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মহিউদ্দিনের সাথে কথা বলতে দিয়ে কেঁড়ে নেয়া হয়। ২৫ দিনের মাথায় একজন মহিলা ওই রুমে আসেন। ওই মহিলা তাকে তার নাম, ঠিকানা, আর্থিক অবস্থা, সাথে কত টাকা ছিলো, মোবাইল ফোন সাথে ছিলো কিনা এসব জিজ্ঞেস করে। পরে রুম রক্ষককে বলেন, তোমাদের ভাইর সাথে আমার কথা হয়েছে। ওকে কাল সকালে ছেড়ে দিবে।

মোবাইল দিয়ে দিবে। পরদিন সকালে তাকে চোখ বেঁধে মুখে মাস্ক পড়িয়ে রুম থেকে বের করা হয়। একটি প্রাইভেট কারে উঠিয়ে টঙ্গি স্টেশন রোডে নামিয়ে দিয়ে তার মোবাইল ফোন হাতে দিয়ে রুম রক্ষক বলে তোর দুলাভাইকে কল দিয়ে গুলিস্তানের দিকে চলে যা। তারপর বাসে উঠে দুলাভাই ইসমাইলকে কল দিয়ে গুলিস্তানে তার কাছে চলে আসি।

ইসমাইল ও ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার মাইনউদ্দিন জানান, আমজাদকে অপহরণের ৩ দিন পর থেকেই ওই সংঘবদ্ধ চক্র মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলো। আমরা বোরহানউদ্দিন, ঢাকার টঙ্গি, মতিঝিল ও কোতওয়ালী থানায় জিডি করতে যাই। কিন্তু ওই থানাগুলো তাদের এলাকার ঘটনা না বলে জিডি নেয়নি।

অবশেষে কোতওয়ালী থানা জিডি নিয়ে র‌্যাব-১, থানা-পুলিশ সহ সরকারী বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য চাই। লোকেশন ট্রাক করে র‌্যাব-পুলিশ আমজাদের অবস্থান জানায়। কিন্তু তারা অপারেশনে যায়নি। এর ভিতর অপহরণকারীরা টাকার যতোই চাপ দিচ্ছিল আমরা প্রথমে অপারগতার কথা জানাই। এক পর্যায়ে দর-দাম করতে থাকি।

আমজাদ বেঁচে আছে কিনা এজন্য তার সাথে কথা বলতে চাই। আমজাদ বেঁচে আছে জেনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বার বার ধর্ণা ধরি। এক পর্যায়ে র‌্যাব-১ এলাকার লোকেশন দিলে টঙ্গি থানা পুলিশ আমজাদকে আটকে রাখা এলাকায় যায়। কিন্তু একই রকম বেশ কয়েকটি সাত তলা ভবন থাকায় পুলিশ অপারেশনে যায়নি। অপহরণকারীরা হয়তো ধরা পড়ে যাবার ভয়ে আমজাদকে ছেড়ে দিয়েছে।

আমজাদের স্ত্রী লুবনা জানান, ফোনে অপহরণকারীদের ৩ লাখ টাকা না দিলে তার স্বামীকে মেরে ফেলার ক্রমাগত হুমকিতে নাওয়া-খাওয়া সব ভুলে গেছি। এখন অনেক ভালো লাগছে। আমজাদের মা ফয়জুননেছা জানান, এ কয়দিন আল্লাহ্র কাছে শুধু আমার মানিককে ফিরিয়ে দেয়ার দোয়া করেছি। আল্লাহ্র দরবারে লাখো-কুটি শুকরিয়া।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

Shares
© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD
Shares