শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ বিশ্বজুড়ে পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে উদযাপিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছে। সেখানে শ্রমিকদের জাতীয় দিবস পালিত হয় সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সোমবার, যা ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল বলে মনে করেন গবেষকরা।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প বিপ্লবের অগ্রগতির পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর শোষণ বাড়তে থাকে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কম মজুরি ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশ শ্রমিকদের আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে। ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নাইটস অব লেবার সংগঠন শ্রমিক অধিকার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শ্রমিকদের আন্দোলন ঠেকাতে মালিকপক্ষ পিঙ্কারটন গোয়েন্দা বাহিনী নিয়োগ করলে সংঘাত রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়।
১৮৮৬ সালে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ধর্মঘট শুরু হয়। শিকাগোর হে-মার্কেট স্কয়ার-এ শ্রমিক সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। পরে প্রমাণ ছাড়াই কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই ঘটনাই আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং পহেলা মে বিশ্ব শ্রমিক ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়।
পরবর্তীতে ১৮৯৪ সালের পুলম্যান ধর্মঘট যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক অসন্তোষকে নতুন মাত্রা দেয়। শিল্পপতি পুলম্যানের কোম্পানি টাউনে মজুরি কমানো ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামলে প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড সেনা মোতায়েন করে ধর্মঘট দমন করেন।
এরপর শ্রমিকদের শান্ত করতে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হলেও মে দিবসের বিপ্লবী ইতিহাস এড়িয়ে সেপ্টেম্বরের প্রথম সোমবারকে ‘লেবার ডে’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উদ্দেশ্য ছিল শ্রমিকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিদ্রোহের মনোভাব প্রশমিত রাখা।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে লেবার ডে একটি জনপ্রিয় ছুটির দিন হলেও, আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের প্রতীকী মে দিবস সেখানে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি।
Leave a Reply