শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চাল, ডিম, তেল, ডাল ও সবজিসহ প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে।
রাজধানীর কাওরান বাজার, শান্তিনগর ও তুরাগ নতুন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি স্পষ্ট হয়েছে। ক্রেতা ফরহাদ হোসেন জানান, এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৫ টাকা বেড়েছে। চাল, ডাল, তেল ও সবজির দামও বাড়ায় মাসিক বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত ১৮ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করে। ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে এলপিজির দামও দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে যায় এবং সেই প্রভাব সরাসরি খাদ্যপণ্যের দামে প্রতিফলিত হয়।
বর্তমানে মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। খোলা আটা ৪২–৪৬ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫–৬০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৫৫–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি বেড়ে ১৮৫–১৯৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০–১০০ টাকায় এবং ফার্মের ডিম ১৩৫ টাকায়।
সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বেগুন ৮০–১২০ টাকা, ঝিঙা ৭০–৮০ টাকা, করলা ৭০–৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং কচুমুখী ৯০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় বাড়াই এর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সরকারি সংস্থা Trading Corporation of Bangladesh (টিসিবি) তাদের নিয়মিত প্রতিবেদনে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সহ্য করা হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পণ্যের দাম বাড়া স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার মনিটরিং জোরদার প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোক্তা অধিদপ্তরের তৎপরতা এখন দৃশ্যমান নয়।
এদিকে তুরাগ এলাকার এক দোকান মালিক জানান, মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্রেতা কমে গেছে। মানুষ প্রয়োজন ছাড়া কেনাকাটা করছেন না। আয় স্থির থাকলেও ব্যয় বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a Reply