বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করছে ইউরোপীয় শক্তিগুলো। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর একটি বহুজাতিক জোট গঠন করে প্রণালিতে মাইন অপসারণ, আটকে থাকা জাহাজ উদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক নজরদারি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় নেতাদের মতে, যুদ্ধরত কোনো পক্ষ এতে থাকলে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা ইরানকে এই মিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। ইউরোপীয় জাহাজগুলোও মার্কিন সামরিক কমান্ডের বাইরে পরিচালিত হবে।
জার্মানির অংশগ্রহণ পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন বিদেশি সামরিক অভিযানে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দেশটির এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আসন্ন অনলাইন বৈঠকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতারা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। যুক্তরাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ না জানানো হলেও চীন ও ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের সম্মতি ছাড়া এ ধরনের মিশন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
পরিকল্পনার তিন ধাপের মধ্যে রয়েছে—প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজ সরিয়ে নেওয়া, সমুদ্রের মাইন অপসারণ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা টহল চালু করা। ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে মাইন অপসারণে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও জাহাজ বেশি থাকায় তারা নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলেও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা উপস্থিতি ছাড়া বিশ্ব বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুরোপুরি সচল রাখা কঠিন হবে।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
Leave a Reply