মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৩ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করেছে, সম্ভাব্য বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে একটি সমন্বিত গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে। পাকিস্তানভিত্তিক চরমপন্থি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুই মাসব্যাপী অভিযানে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা, কলকাতা, দিল্লি এবং তামিলনাড়ুতে একযোগে অভিযান চালানো হয়। ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নেতৃত্বে ছিলেন শ্রীনগরের বাসিন্দা শাব্বির আহমেদ লোন। দিল্লি পুলিশের দাবি, তিনি পূর্বে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেছিলেন এবং ২০১৮ সালে জামিন পান। এরপর তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে নেপাল সীমান্ত ব্যবহার করে আবার ভারতে প্রবেশ করেন বলে পুলিশের বক্তব্য।
টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাত বাংলাদেশি হলেন— মিজানুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ উজ্জ্বল, উমর ফারুক, মো. শাফায়েত হোসাইন ও রবিউল ইসলাম। তাদের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় পুলিশ ১০টি মোবাইল ফোন, ২৫টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, পাঁচটি পজ মেশিন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং কয়েকটি পোস্টার উদ্ধার করেছে। এসব আলামত ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছিল বলে সন্দেহ করছে তদন্তকারীরা।
ভারতীয় পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাব্বির আহমেদ ঢাকার কাছাকাছি একটি আস্তানা থেকে লস্করের একটি সেল পরিচালনা করছিলেন এবং ভারতে বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানের কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তা ভেস্তে যায়।
ঘটনার আন্তর্জাতিক সংযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জঙ্গি অর্থায়ন নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply